Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলির একটি। এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয়। ইরান ইতিমধ্যেই এই প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে। এর জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা মত মার্কিন নৌবাহিনীও এই প্রণালীর কাছে ইরানি বন্দর অবরোধ করেছে। এই সবের মাঝে ভারতে এর প্রভাব কী?
ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশের এরও বেশি আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে ভারত। সেই দেশগুলি থেকে আসা বেশিরভাগ তেল এই হরমুজ প্রণালীর পথ দিয়েই ভারতে পৌঁছায়। এই আবহে ট্রাম্পের এই অবরোধের সিদ্ধান্ত ভারতের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। এমনিতে হরমুজ সংকটের মধ্যে ভারত রাশিয়ার থেকে পুনরায় তেল কেনা বাড়িয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক ভাবে রুশ তেল কেনার ওপর ছাড় দিয়েছিল। তবে এই ছাড়ের মেয়াদ ছিল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। আমেরিকা যদি এই ছাড়ের মেয়াদ না বাড়ায়, তাহলে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত তেল কিনলে ফের ভারত-মার্কিন সম্পর্কে চিড় ধরার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এদিকে দীর্ঘ ৭ বছর পরে ইরানের অশোধিত তেল ভারতে এসে পৌঁছেছে। তবে এই নয়া অবরোধের জেরে ইরান থেকেও ভারত তেল কিনতে পারবে না। কারণ ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা সব জাহাজকে আটকানো হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
সেই ক্ষেত্রে ভারতকে উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে হবে। তবে ইরানের বন্দর যদি আমেরিকা অবরোধ করে রাখে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলির জাহাজকেও ইরান নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করতে দেবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এই দেশগুলিকে আমেরিকার সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান। এই আবহে নতুন করে অশান্তি ছড়াতে পারে পশ্চিম এশিয়ায়। আর এর জেরে ভারতে বাড়তে পারে জ্বালানি সংকট।
{{/usCountry}}সেই ক্ষেত্রে ভারতকে উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে হবে। তবে ইরানের বন্দর যদি আমেরিকা অবরোধ করে রাখে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলির জাহাজকেও ইরান নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করতে দেবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এই দেশগুলিকে আমেরিকার সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করছে ইরান। এই আবহে নতুন করে অশান্তি ছড়াতে পারে পশ্চিম এশিয়ায়। আর এর জেরে ভারতে বাড়তে পারে জ্বালানি সংকট।
{{/usCountry}}হরমুজ অতিক্রম করা জাহাজগুলি থেকে ইরান টোল নিচ্ছে। তবে ভারতীয় জাহাজের থেকে কোনও টাকা নিচ্ছে না ইরান। কিন্তু এখন আমেরিকার নতুন অবরোধের পর 'ইরানের সদিচ্ছাও' ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার ফোনে কথা বলেন। দু'জনের কথোপকথনের মূল ইস্যু ছিল হরমুজ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও আলোচনা করেন দু'জন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে এলপিজি, পিএনজি এবং সিএনজি-র কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু যুদ্ধের কারণে বিমা খরচ এবং পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে। সরকারের দাবি, সারা দেশে কোনও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে স্টকের অভাব নেই। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।