ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের কারণে ইজরায়েল থেকে ভারতে সামরিক সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে বলে জানালেন হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডিকে সুনীল। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চলতি বছরের চাহিদা মেটানোর জন্য ভারতের কাছে পর্যাপ্ত সামরিক সরবরাহ মজুত রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, সুনীল বলেছিলেন যে ইরানের বোমা হামলার কারণে ইজরায়েলের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, দেশীয় যুদ্ধবিমান 'তেজস'-এর রাডার, ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এবং হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে ইজরায়েল থেকেই কেনা হয়ে থাকে।

এদিকে হ্যালের বহু কর্মী ইজরায়েলে কাজ করছিলেন এর আগে। তবে ইরান যুদ্ধের আবহে সেই সব কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হ্যাল প্রধান আশা করছেন যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ইজরায়েল শীঘ্রই বকেয়া সরবরাহের দ্রুত ভারতে পাঠাতে পারবে। এদিকে ইরান যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে হ্যাল এখন ক্যাটস ওয়ারিয়রের বিকাশে বেশি মনোনিবেশ করছে। এই ড্রোনটি নীচু হয়ে উড়তে পারে এবং অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এই ক্যাটস ওয়ারিয়রের একটি ৩ টন ওজনের প্রোটোটাইপ তৈ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যথাক্রমে ৫ এবং ৭ টনের মডেলও তৈরি করবে হ্যাল। হ্যাল প্রধান জানিয়েছেন, ক্যাটস ওয়ারিয়র প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে হ্যাল নিজেরাই। এর যন্ত্রাংশ এবং ফিউজলেজগুলি বর্তমানে প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে তেজস এমকে১এ যুদ্ধবিমান ডেলিভারিতে বেশ দেরি করেছে হ্যাল। যা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান খোদ। তবে এই নিয়ে হ্যালের বক্তব্য, সময় মতো বিমানের ইঞ্জিন পাঠাচ্ছে না আমেরিকার 'জিই অ্যারোস্পেস'। মার্কিন সংস্থাটি নাকি হ্যালকে আস্বস্ত করেছে, জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে। আগামী মাসে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা হ্যালের। সেখানে তেজস সরবরাহের ইস্যুতে কথা হবে দুই পক্ষের। এদিকে বায়ুসেনার কাছে থাকা তেজস সম্প্রতি 'গ্রাউন্ড' করা হয়েছিল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। এই নিয়ে হ্যালের সুনীল জানান, বিমানের ব্রেকিং সফটওয়্যারে ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা এখন পুরোপুরি সংশোধন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ফের আকাশে উড়বে বায়ুসেনার বিমানগুলি।