মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এলপিজি ও অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বহু দেশে। এই আবহে অনেক দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এরই মধ্যে। এহেন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের সরকার ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া সরকারি অফিসগুলোতেও ওয়ার্ক ফ্রম হোম নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের ভাতা কমানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রদেশের মন্ত্রীদেরও সরকারি জ্বালানী বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তানে এমনিতেও তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। এত কিছুর পরও তেলের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে পাকিস্তানিদের।

এদিকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারও একাধিক পদক্ষেপ করেছে। সরকারি অফিসে কর্মী সংখ্যা অর্ধেক কমানো হয়েছে, সেই সাথে সপ্তাহে চার দিন করেই অফিসে যেতে বলা হয়েছে অফিসে। আগামী দুই মাসের জন্য সরকারি ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো হবে এবং সরকারি দফতরের যানবাহনে বরাদ্দ জ্বালানিও অর্ধেক কমানো হবে। এদিকে আগামী সপ্তাহ থেকে গোটা দেশে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অনলাইন মোডে চলে যাবে। মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী দুই মাস বেতন পাবেন না। অপ্রয়োজনীয় সরকারি বিদেশ সফরের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। হোটেলের পরিবর্তে সরকারি ভবনগুলিতে সেমিনার এবং সম্মেলন অনুষ্ঠিত করতে হবে টাকা বাঁচাতে।
অন্যদিকে মায়ানমারে যানবাহনের জন্য জোড়-বিজোড় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনেক জায়গায় জ্বালানির অভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মায়ানমারের অনেকে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন তেল কিনতে। এদিকে বাংলাদেশে বাইকে ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার করে তেল দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য আগাম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে। বাংলাদেশে অবশ্য এর আগে থেকেই গ্যাসের সংকট ছিল। ইউনুস জমানা থেকেই সিলিন্ডারের কালো বাজারি বেড়েছিল। গ্যাসের সিলিন্ডার ২-৩ গুণ দামে বিক্রি হচ্ছিল বাংলাদেশে। আর বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় আরও বিপাকে বাংলাদেশ।