Iran War Latest Update: ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এবার প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় দুই দেশ বাহরিন ও কুয়েত সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের এই অভিযানে সৌদি আরব গোয়েন্দা তথ্য এবং আকাশপথে প্রতিরক্ষার সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরিন ও কুয়েত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কেন্দ্র এবং সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এতদিন উপসাগরীয় দেশগুলি মূলত আত্মরক্ষার নীতি অনুসরণ করত। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করলেও তারা সরাসরি যুদ্ধে নামেনি। কারণ, এতে গোটা অঞ্চলে বড় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর বাহরিন ও কুয়েত নিজেদের অবস্থান বদলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওমান ও কাতার এখনও পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযান শুরু করেনি। তবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপে সৌদি আরবের সহযোগিতা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে বাহরিন, কুয়েত ও জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন এলাকাতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছে। এসব কারণে উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায়ই সতর্কতা জারি করা হচ্ছে এবং সাইরেন বাজানো হচ্ছে।
ইরানের দাবি, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি—ক্যাম্প উদাইরি, ক্যাম্প দোহা, ক্যাম্প আরিফজান এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, শনিবারও দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ইরানের দাবি, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি—ক্যাম্প উদাইরি, ক্যাম্প দোহা, ক্যাম্প আরিফজান এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, শনিবারও দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}এর আগে ইরান উত্তর ইরাকের একটি শহরেও হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনাগুলি ঘটেছে এমন সময়ে, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তারা টানা ১৩তম রাতেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনাই এই সংঘাতের মূল কারণ। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের অর্থনীতিতেও।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাহরিন, কুয়েত ও সৌদি আরবের সরাসরি হামলার দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক মহল।