...
...
Next Story

Iran War Latest Update: ইরানের কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচ বিস্ফোরণ! বন্দর লেঙ্গেহেও কাঁপল বিকট আওয়াজে

মঙ্গলবার ভোরে ইরানের কেশম দ্বীপ এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহরের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র দাবি, কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণ হয়েছে। অন্য দিকে, আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহের সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে।

Published on: Nov 3, 2026, 08:46:16 IST
Advertisement

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। মঙ্গলবার ভোরে ইরানের কেশম দ্বীপ এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহরের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র দাবি, কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণ হয়েছে। অন্য দিকে, আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহের সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে প্রথমে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও পরে আমেরিকার এক আধিকারিক স্বীকার করেছেন, কেশম দ্বীপে ইরানের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে সীমিত হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত ফের বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেশম দ্বীপে কী ঘটেছে?

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়।
ইরানের দক্ষিণ উপকূলে ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়।

আইআরএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ধারণা, দ্বীপের ভিতরেই কোথাও আঘাত হেনেছে। কয়েক জন বাসিন্দা আকাশে দু'টি বিমান উড়তেও দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে ঠিক কোন এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে, কী ধরনের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্য দিকে, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের বন্দর শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ফার্স সংবাদ সংস্থার দাবি, সমুদ্রের দিক থেকেই সেই শব্দ এসেছিল। তবে সেখানে কোনও জাহাজ বা সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। হতাহতের সংখ্যা বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।

হামলার কথা স্বীকার আমেরিকার

রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এক মার্কিন আধিকারিক। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী আমেরিকার সম্পদের দিকে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করেছিল। তার জবাবেই আত্মরক্ষার স্বার্থে হামলা চালানো হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি সীমিত সামরিক অভিযান। এর অর্থ এই নয় যে আমেরিকা ফের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে চাইছে।

কেশম দ্বীপের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই দ্বীপের সামরিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ এই প্রণালী। এখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলে। ফলে এই এলাকায় সামরিক সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

উল্লেখযোগ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ইরানের বন্দরগুলিতে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ রয়েছে। এর মধ্যেই কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। কাতারের প্রস্তাবিত সমঝোতার একটি দিক হল, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইরানের উপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া।

শান্তির আলোচনা, নাকি নতুন সংঘাত?

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার খবর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্য দিকে, ইরানের নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক সংঘাত, দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। ফলে এক দিকে যখন আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে, অন্য দিকে সামরিক পদক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। কেশম দ্বীপের বিস্ফোরণের পর ইরান কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সে দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks