Iran War Latest Update: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়েই নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে জর্ডানে। এর আগে দু'জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছিলেন। জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার ভোরে ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড়সড় হামলা চালায় আমেরিকা।
মার্কিন সেনার দাবি, এই অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র বিভিন্ন ঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের জায়গা এবং সামুদ্রিক সামরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার জবাব দেওয়া।
মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিওতে যুদ্ধবিমান এবং সমুদ্র থেকে ছোড়া টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার দৃশ্য দেখা গিয়েছে। কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু পাহাড়ি এলাকায় ছিল, যেখানে ইরান সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম গোপন করে রাখে বলে দাবি করেছে আমেরিকা।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা আক্রমণ জারি রেখেছে। ইরানি বাহিনী জর্ডনের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, আমেরিকা তাদের একটি নির্মীয়মাণ পরমাণু কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা আক্রমণ জারি রেখেছে। ইরানি বাহিনী জর্ডনের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, আমেরিকা তাদের একটি নির্মীয়মাণ পরমাণু কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
{{/usCountry}}সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন আগেই এই প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার জন্য আমেরিকাকেই দায়ী করেছিল ইরান।
উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলিতেও। কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল পরিশোধন কেন্দ্রে হামলার খবর মিলেছে। বাহরিন, জর্ডন এবং কুয়েত নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ইজরায়েলও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তাদের ভূখণ্ডেও আঘাত হানতে পারে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডনের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, একজন নিখোঁজ এবং আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫১৭ জন আহত হয়েছেন। দুই দেশের এই সংঘাত কবে থামবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত অবনতি হচ্ছে, তাতে পশ্চিম এশিয়ায় আরও বড় সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।