মধ্যপ্রাচ্যে ফের ভয়াবহ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। ফলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা করেছিল। তার জবাবেই ইরানে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেই এই সংঘাতের কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।

তবে মার্কিন হামলায় সাধারণ মানুষের হতাহতের অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেই সময় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো একটি বাড়িতে গিয়ে পড়ে বলে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে। ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।
ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ভয়াবহ হামলা বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকার দাবি, তাদের বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। সেন্টকমের বক্তব্য, তাদের লক্ষ্য ছিল আইআরজিসির সামরিক অবস্থান। এর মধ্যেই পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড দাবি করেছে, জর্ডনে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি ঘাঁটি, ক্যাম্প টিটিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা অন্তত ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আটক করেছে। আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতি থেকে দূরে গিয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বাহরাইন এবং কুয়েতেও হামলা ও বিস্ফোরণের খবর এসেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের সতর্ক করেছে। নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্বও কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, আমেরিকা আরও হামলা চালালে তার জবাব আরও শক্তিশালী হবে। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে যতক্ষণ না ওয়াশিংটন তাদের পদক্ষেপের পরিণতি বুঝতে পারে।
{{/usCountry}}বাহরাইন এবং কুয়েতেও হামলা ও বিস্ফোরণের খবর এসেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের সতর্ক করেছে। নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্বও কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, আমেরিকা আরও হামলা চালালে তার জবাব আরও শক্তিশালী হবে। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে যতক্ষণ না ওয়াশিংটন তাদের পদক্ষেপের পরিণতি বুঝতে পারে।
{{/usCountry}}আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্র মাইন বসানোর চেষ্টা করেছিল। সেই কারণেই মার্কিন হামলা। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে আরও বড় আঘাত আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হরমুজ প্রণালী নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ এটি। এখানে সামরিক সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ইরান-আমেরিকার নতুন সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জর্ডন, বাহরাইন, কুয়েত-সহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যই এর প্রভাবের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। আর হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।