...
...
Next Story

Iran War Latest Update: হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ২ সেতু, এক রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে হামলা আমেরিকার, নিহত ৪

বৃহস্পতি রাত এবং শুক্রবার ভোররাতে ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে চালানো একটি হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ন'জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বন্দর আব্বাস শহরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।

Published on: Jul 17, 2026, 07:48:08 IST
Advertisement

Iran War Latest Update: মধ্যপ্রাচ্যে ফের ভয়াবহভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। এক মাস আগেই যে যুদ্ধবিরতি ও প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত থামার আশা দেখা গিয়েছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সেতু, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়েছে। এর জবাবে মার্কিন মিত্র দেশগুলির দিকেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতি রাত এবং শুক্রবার ভোররাতে ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে চালানো একটি হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ন'জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বন্দর আব্বাস শহরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ও রসদ পরিবহণ ব্যবস্থা। অন্যদিকে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশে দুটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। এই অঞ্চলটি হরমুজ প্রণালীর খুব কাছাকাছি, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সেতুতে হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

আহভাজের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সি এক শিক্ষক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। তাঁর কথায়, 'পরপর অন্তত ১১-১২টি বিস্ফোরণ হয়েছে। এখনও হাত কাঁপছে, কানে যেন তালা লেগে রয়েছে।' এদিকে ইরানের হামলার জেরে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন মিত্র দেশগুলিও। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। বাহরিনেও বাজানো হয়েছে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন।

ইরানের সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, 'হরমুজ প্রণালীর প্রশ্নে আমরা কখনও পিছু হটব না।' একই সঙ্গে মার্কিন সেনাকে গোটা অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, জুন মাসে হওয়া সমঝোতার পর অল্প সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও গত সপ্তাহেই ইরান ঘোষণা করেছিল, মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধই থাকবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলির উপর অবরোধ কার্যকর করেছে। মার্কিন সেনার দাবি, ওমান উপসাগরে একটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং অবরোধ কার্যকর রাখতে অন্তত তিনটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তির বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ এখনও দুই পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে চলেছে। তবে ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট বলেছেন, কোনও চুক্তির মূল্য তখনই রয়েছে, যখন তার শর্তগুলি বাস্তবে কার্যকর করা হয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে ইরানকে তার মূল্য দিতেই হবে। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলিকে লক্ষ্য করে আরও বড় হামলা চালানো হবে।

ইরানের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া নতুন মার্কিন হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe