...
...
Next Story

ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের স্বজনদের হোয়াইট হাউস বয়কট, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠছে প্রশ্ন

হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলির জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন নিহত মার্কিন সেনার পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানো হয়।

Published on: Oct 7, 2026, 14:47:25 IST
Advertisement

যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ হারিয়েছেন প্রিয়জন। তার পর মাসের পর মাস কেটে গেলেও অনেক পরিবারের কাছে রয়ে গিয়েছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। সেই ক্ষোভই যেন প্রকাশ্যে এল হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে। ইরানের সঙ্গে চলতি যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও ছয় নিহত সেনার কয়েকটি পরিবার সেখানে উপস্থিত হয়নি। কারণ, তাঁদের অভিযোগ—মার্চের ভয়াবহ ড্রোন হামলার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, কেন পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ছিল না, সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল তা কেন গুরুত্ব পেল না, এখনও তার কোনও পরিষ্কার উত্তর মেলেনি।

US President Donald Trump speaks to reporters after arriving aboard the Marine One helicopter on his South Lawn helipad at the White House in Washington, D.C., US, October 6, 2026. REUTERS/Jonathan Ernst (REUTERS)
US President Donald Trump speaks to reporters after arriving aboard the Marine One helicopter on his South Lawn helipad at the White House in Washington, D.C., US, October 6, 2026. REUTERS/Jonathan Ernst (REUTERS)

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলির জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন নিহত মার্কিন সেনার পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন, নিহতদের স্মরণে মোমবাতিও জ্বালানো হয়। ইরান-যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের পাশাপাশি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-সহ আগের বিভিন্ন সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাদের স্বজনেরাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

কিন্তু মার্চ ১-এর হামলায় নিহত ছয় সেনার প্রত্যেকের পরিবার সেখানে ছিল না। কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ওই হামলায় ছয় জন মার্কিন সেনা নিহত হন। ইরানের ড্রোন হামলাটি যুদ্ধ শুরুর পর এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত। হামলার পর জীবিত ফেরা কয়েক জন সেনা অভিযোগ করেছেন, ওই ঘাঁটিটি ইরানের সম্ভাব্য নিশানা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পর্যাপ্ত ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। হামলার আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও জানানো হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।

নিহত সেনাদের পরিবারগুলির ক্ষোভের কেন্দ্রে এখন মার্কিন সেনাবাহিনীর তদন্ত। হামলার তদন্ত জুনেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্মি। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের এখনও সেই রিপোর্টের ফলাফল জানানো হয়নি। সেনাবাহিনীর বক্তব্য, রিপোর্টে থাকা সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। তার পরেই পরিবারের কাছে তা তুলে ধরা হবে। কিন্তু নিহতদের স্বজনদের প্রশ্ন—প্রাণ হারানো মানুষের পরিবারকেই যদি এত দিন অপেক্ষা করতে হয়, তবে স্বচ্ছতা কোথায়?

অন্য দিকে, চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট মারজানের স্ত্রী টিনা মারজান জানান, তাঁকে বা তাঁর দুই সন্তানকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এমন স্মরণ অনুষ্ঠানে নিহত সেনার পরিবারের উপস্থিতি তো স্বাভাবিক অধিকার। মার্কিন প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁদের আগের অনুরোধকেও সম্মান করা হয়। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, আমন্ত্রণ এলেও এত দেরিতে এসেছে যে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

এই ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে ট্রাম্পের পুরনো মন্তব্য। যুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি সংঘাতকে ‘লিটল এক্সকারশন’ বলেছিলেন। পরে ‘স্মল পটেটোস’ বলেও উল্লেখ করেন। নিহত সেনাদের কিছু পরিবার মনে করে, এমন মন্তব্য যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন তাঁদের শোক ও ত্যাগকে ছোট করে দেখিয়েছে।

এ দিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১৯ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮০০-র বেশি আহত হয়েছেন বলে হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে। ফলে নিহতদের পরিবারের এই অসন্তোষ এখন শুধু একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি-অনুপস্থিতির প্রশ্ন নয়। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, সেনাদের নিরাপত্তা এবং সামরিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের উপর বাড়তে থাকা চাপেরও প্রতিফলন এই ঘটনা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks