ইরানের পরমাণু সক্ষমতাকে পুরোপুরি নির্মূল করতে মরিয়া ইজরায়েল। এই আবহে আমেরিকা আপাতত ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রেখেছে। তবে ইজরায়েল হামলা জারি রেখেছে। এই আবহে ২৭ মার্চ ইজরায়েলি বিমান বাহিনী দাবি করে, তারা ইরানের ইয়াজদে একটি ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানের আরাকে অবস্থিত হেভি ওয়াটার সেন্টার লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল সামরিক বাহিনী। প্লুটোনিয়ামকে পারমাণবিক অস্ত্রে পরিণত করতে হেভি ওয়াটারের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তারা যদি হামলা না করত, তাহলে আর ২ সপ্তাহের মধ্যেই ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করে ফেলত।

এর কয়েকদিন আগে ইরানের নাতাঞ্জে অবস্থিত পরমাণু কেন্দ্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। এর জবাবে ইজরায়েলের ডিমোনায় গোপন পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এরপর ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলিতে পালটা হামলা চালায় ইজরায়েল। তবে ইজরায়েলের সেই পদক্ষেপে 'খাপ্পা' হয় আমেরিকা। এরই সঙ্গে ইরানের সবচেয়ে বড় দুটি ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়। আহভাজের খুজেস্তান ইস্পাত কারখানা এবং ইসফাহানের নিকটবর্তী মোবারাকেহ ইস্পাত কারখানা লক্ষ্য করে ইজরায়েল হামলা চালায়। আমেরিকা আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ না করে, তাহলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে আপাতত আমেরিকা হামলা স্থগিত রেখেছে। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে অন্য দেশগুলির সাহায্য চাইছে আমেরিকা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথ হামলা চালিয়ে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করে। এদিকে ইরানের ওপর হামলা সময় একটি স্কুলেও আছড়ে পড়েছিল মার্কিন মিসাইল। যাতে মারা গিয়েছিল প্রায় ২০০ পড়ুয়া। এরপর থেকে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ জুড়ে ইরান হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন থেকে শুরু করে দুবাই, সৌদি, কাতার, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল। এই আবহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি হামলায় আমেরিকার একাধিক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন। এদিকে এই যুদ্ধে আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের 'চোখ-কান' হারিয়েছে আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে নিজেদের দূতাবাস খালি করিয়েছে আমেরিকা। যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী কার্যত স্তব্ধ। বিভিন্ন দেশের তেলের ডিপোতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব পড়ছে।