হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতসহ বন্ধু দেশগুলোর জাহাজ যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করেছে। এই আবহে ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাত্তাহলি সোমবার বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, 'হরমুজ প্রণালী কেবল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধরত দেশগুলোর জন্য বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা।' এরই সঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রদূত চাবাহার প্রকল্প নিয়েও মুখ খোলেন।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, 'ইরান বরাবরই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল রুটে নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ নয়, বরং এটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তাই প্রণালী ব্যবস্থাপনায় এই দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করা অগ্রাধিকারের বিষয়। এখান দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি তেহরান এবং মাস্কাটের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে।'
এদিকে চাবাহার নিয়ে ইরানের অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন ফাত্তাহলি। তিনি বলেন, চাবাহারের মতো বড় আঞ্চলিক প্রকল্পকে একতরফা এবং অবৈধ ভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত না। চাবাহার বন্দর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রকল্পটি। এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখে চলেছে ইরান। এর আগে চাবাহার বন্দরকে ৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে বাইরে রেখেছিল আমেরিকা। তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথা হয়েছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষের। আবার চলতি অর্থবর্ষে চাবাহারের জন্য ১ পয়সাও বরাদ্দ করেনি ভারত সরকার। সম্ভাব্য সংঘতের আবহে মনে হয় ভারত এখানে বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চায়নি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসানে ভারত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আলাপ-আলোচনা ও সংযম বজায় রাখার জন্য ভারত সব পক্ষকে যে আহ্বান জানিয়েছে, সেই বার্তারও তিনি প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতের অবস্থান দায়িত্বশীল। আমরা বিশ্বাস করি যে এই পরিস্থিতিতে ভারতের মতো দেশের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তিনি বলেন, ইরান আশা করে সব স্বাধীন দেশ আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাবে। ইরান কখনও যুদ্ধ চায়নি। ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, এই যুদ্ধ ইরানি জনগণের মধ্যে আরও ঐক্য ও সংহতি নিয়ে এসেছে। এদিকে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে বর্তমান সংঘাতের আবহে দায়িত্বশীল মনোভাব গ্রহণ করতে এবং হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
{{/usCountry}}রাষ্ট্রদূত বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসানে ভারত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আলাপ-আলোচনা ও সংযম বজায় রাখার জন্য ভারত সব পক্ষকে যে আহ্বান জানিয়েছে, সেই বার্তারও তিনি প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতের অবস্থান দায়িত্বশীল। আমরা বিশ্বাস করি যে এই পরিস্থিতিতে ভারতের মতো দেশের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তিনি বলেন, ইরান আশা করে সব স্বাধীন দেশ আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাবে। ইরান কখনও যুদ্ধ চায়নি। ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, এই যুদ্ধ ইরানি জনগণের মধ্যে আরও ঐক্য ও সংহতি নিয়ে এসেছে। এদিকে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে বর্তমান সংঘাতের আবহে দায়িত্বশীল মনোভাব গ্রহণ করতে এবং হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
{{/usCountry}}