আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। এরই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা যে ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল, তা আমেরিকা মেনে নিয়েছে। এই আবহে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। এই আবহে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা। তবে ঠিক কবে থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়। অবশ্য জানা গিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এখান থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি ইরানের সামরিক ব্যবস্থাপনায় হবে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ইরান ও ওমান উভয়কেই এই নৌপথ দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর 'টোল' আরোপ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ইরান এই অর্থ যুদ্ধ হওয়া ধ্বংসলীলার ক্ষতপূরণ হিসেবে ব্যবহার করবে। যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এই অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।
ইরানের সরকারি মিডিয়া জানিয়েছে, আমেরিকা যে ১০ শর্ত মেনে নিয়েছে, সেগুলি হল:
- সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ
- হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে
- ইরানের ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট প্রকল্প মেনে নেওয়া
- সব ধরনের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা
- সব ধরনের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা
- রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে যে সকল প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে, তা বাতিল করা
- আইএইএ বোর্ড অফ গভর্নর যে প্রস্তাবনা পাশ করিয়েছে, তা বাতিল করা
{{/usCountry}}- আইএইএ বোর্ড অফ গভর্নর যে প্রস্তাবনা পাশ করিয়েছে, তা বাতিল করা
{{/usCountry}}- ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া
- যুদ্ধে লিপ্ত মার্কিন বাহিনীকে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করা
- ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স অফ লেবানন সহ সবার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা।
যুদ্ধবিরতির পরে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। তবে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। ইরানের বক্তব্য, আমাদের আঙ্গুল এখনও ট্রিগারে রয়েছে, এবং যদি শত্রু সামান্যতম ভুল করে তবে পূর্ণ শক্তিতে তাদের প্রতিহত করা হবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানে হামলা বন্ধ করবে। ট্রাম্প আরও লিখেছেন, 'সমস্যাটি' এখন সমাধানের কাছাকাছি। এদিকে ট্রাম্প মুখে যাই বলুক, ইরানের কথা মতো যদি এই সব শর্ত আমেরিকা মেনে নিয়ে থাকে, তাহলে আদতে তা তেহরানেরই 'জয়' বলে বিবেচিত হবে।