ইরান যুদ্ধের আঁচ বেশ ভালো ভাবেই পড়েছে ইরাকে। ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান। আবার ইরাকের কুর্দি বিদ্রোহীদের ইরানের বিরুদ্ধে 'ব্যবহার' করতে মরিয়া আমেরিকা। এই সবের মাঝেই নয়া প্রেসিডেন্ট পেল ইরাক। জানা গিয়েছে, কুর্দি নেতা নিজার আমেদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট। পাঁচ মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই আবহে ইরাকের সংসদ এবার নির্বাচিত করল প্রেসিডেন্টকে। উল্লেখ্য, নির্বাচনে কোনও দলই নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এই আবহে রবিবার ইরাকের সংসদে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই নিজার আমেদিকে নির্বাচিত করা হয়। দ্বিতীয় রাউন্ড ব্যালটে তিনি ২৪৯-এর মধ্যে ২২৭টি ভোট পান।

এদিকে তিনি এমন এক সময়ে নির্বাচিত হলেন যখন ইরান যুদ্ধের জড়িয়ে পড়েছে ইরাক। ইরান সমর্থিত যোদ্ধারা ইরাকের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার জেরে তেল রফতানি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে। এর উপর ইরাকের অর্থনীতি নির্ভর করে। এই সংবেদনশীল সময়ে ইরাকের সর্বোচ্চ সংবিধানিক পদে বসছেন আমেদি।
উল্লেখ্য, সদ্য নির্বাচিত ইরাকি প্রেসিডেন্ট আমেদি কুর্দিস্তান প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য। এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ইরাকের বর্তমান বিদেশমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেনকে পরাজিত করেছেন। হুসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল প্রতিদ্বন্দ্বী কুর্দিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ঐতিহ্য অনুসারে, ইরাকের রাষ্ট্রপতি সর্বদা একজন কুর্দি হন, এবং প্রধানমন্ত্রী একজন শিয়া এবং সংসদীয় স্পিকার একজন সুন্নি হন। ইরাকের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা। প্রেসিডেন্ট একটি আলংকারিক পদ। নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক ইরাকে। তবে সেই নির্ধারিত সময়ের ২ মাসেরও পরে অনুষ্ঠিত হয় ইরাকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
উত্তর ইরাকের দোহুক প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী আমেদি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমেদি এর আগে ইরাকের দুই রাষ্ট্রপতি জালাল তালাবানি এবং ফুয়াদ মাসুমের সহযোগী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমেদি ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ‘প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তান’-এর সাধারণ সম্পাদকের অফিসে কাজ করেছেন। পরে তিনি দলের উচ্চ পদে আসীন হন। ২০২২ সালে আমেদি প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানির সরকারে পরিবেশ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
{{/usCountry}}উত্তর ইরাকের দোহুক প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী আমেদি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমেদি এর আগে ইরাকের দুই রাষ্ট্রপতি জালাল তালাবানি এবং ফুয়াদ মাসুমের সহযোগী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমেদি ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ‘প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তান’-এর সাধারণ সম্পাদকের অফিসে কাজ করেছেন। পরে তিনি দলের উচ্চ পদে আসীন হন। ২০২২ সালে আমেদি প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানির সরকারে পরিবেশ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
{{/usCountry}}প্রথম রাউন্ডের ভোটে কোনও প্রার্থী প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। সেই রাউন্ডে আমেদি অন্য ১৫ জন প্রার্থীর চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। প্রথম রাউন্ডে তিনি ২০৮টি ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রার্থী (কুর্দিস্তান ইসলামিক ইউনিয়ন ব্লকের এমপি মুথান্না আমিন নাদের) ১৭ টি ভোট পেয়েছিলেন। এরপর পার্লামেন্টে দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে আমেদি ২২৭ ভোট পান এবং নাদের ১৫টি ভোট পান।