...
...
Next Story

Bangladesh: চিনের থেকে যুদ্ধবিমান কেনার পরই ট্রাম্পদের খুশি করার চেষ্টা? মক্কাচুক্তি গুঞ্জনের মাঝে বাংলাদেশ কিনছে…

Bangladesh: নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও বিমান কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার রাতে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এক এক্স পোস্টে এই তথ্য জানান

Published on: Aug 31, 2026, 17:05:19 IST
Advertisement

Bangladesh: আমন্ত্রণ সত্ত্বেও ভারত সফরে ‘না।’ অন্যদিকে, পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের সামরিক জোট তথা মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রবল ইচ্ছাপ্রকাশ। কুর্সিতে বসা ইস্তক একের পর এক ‘ভারত-বিরোধী’ সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সরকার। সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ছিল অত্যাধুনিক চিনা লড়াকু জেট জে-১০সিই। বেজিংয়ের থেকে ওই যুদ্ধবিমান ঢাকা কিনতে চলেছে বলেই সূত্র মারফত মিলেছে খবর। এই আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং বিমান কিনতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই মুহূর্তে কী দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে চাইছে বাংলাদেশ? একদিকে চিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক, অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করা আর মক্কা চুক্তিতে যোগ-এই তিন গেরোয় এখন আস্টে পিস্টে জড়িয়ে পড়েছে ঢাকা।

ত্রিফলা কৌশলে জর্জরিত বাংলাদেশ?
ত্রিফলা কৌশলে জর্জরিত বাংলাদেশ?

সূত্রের খবর, নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও বিমান কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার রাতে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এক এক্স পোস্টে এই তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে হওয়া নতুন এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ‘অসাধারণ চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সার্জিও গোর। তবে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে কতগুলো বিমান কিনতে যাচ্ছে, সেটি সার্জিও গোর তাঁর পোস্টে ঊহ্য রেখেছেন। গত ৩০ জুলাই থেকে তিন দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছেন তিনি। সফরের শেষ দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। ঢাকা ছেড়ে দিল্লি যাওয়ার আগে তাঁর এক্সে পোস্টে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারে অপার সম্ভাবনা আর অংশীদারত্ব বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণে চিনের ২০টি জে-১০সিই বহুমুখী (মাল্টিরোল) লড়াকু জেট কিনতে চলেছে তারেক সরকার। তার জন্য ২৩০ কোটি ডলার খরচ করবে ঢাকা। সেটা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাদের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ক্রয় হতে চলেছে। বর্তমানে যুদ্ধবিমানের চুক্তির ব্যাপারে বেজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে বলেও জানা গিয়েছে। গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’কে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বেধে যায় ‘যুদ্ধ।’ চার দিনের মাথায় লড়াই থামতেই চিনা লড়াকু জেট জে-১০সিইর ভূয়সী প্রশংসা করে ইসলামাবাদ। সূত্রের খবর, তার পরই সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটিকে বায়ুসেনার বহরে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে বেজিং-ঢাকা শুরু হয় আলোচনা। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সিলমোহর পড়লে প্রতিটি যুদ্ধবিমানের জন্য দিতে হবে প্রায় ১১ লক্ষ ৫০ কোটি ডলার। যদিও চিনা জেটটির ভিত্তিমূল্য (পড়ুন বেস প্রাইস) ৬.২৭ কোটি ডলার বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের বাড়তি খরচের নেপথ্যে প্রশিক্ষণ, অন্যান্য সরঞ্জামের সরবরাহ (লজিস্টিক) এবং কারিগরি সহায়তাকে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

এদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারতের কাছে অপরিসীম। ঢাকার সঙ্গে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে থাকে নয়াদিল্লি। দুই প্রতিবেশীর ঐতিহাসিক সম্পর্কও বেশ গভীর। ২০২৪ সালে গণ অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন পদ্মাপারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ভারতে রয়েছে তিনি। এই পরিস্থিতিতে চিন এবং পাকিস্তানের মতো জোড়া শত্রুর সঙ্গে ঢাকার মাখামাখি যে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্র।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe