...
...
Next Story

Sindh province: সিন্ধু প্রদেশে টিটিপি-র পদার্পণ? ভিডিওয় বিন কাসিমের ইতিহাস টেনে হুঁশিয়ারি বন্দুকধারীদের

Sindh province: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী টিটিপি সশস্ত্র সদস্যদের সিন্ধি ভাষায় সেখানকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে এবং সংগঠনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে।

Published on: Sep 29, 2026, 22:48:06 IST
Advertisement

Sindh province: তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) বা পাকিস্তান তালিবান—যাদের শীর্ষ নেতৃত্ব ও যোদ্ধারা সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে বলে ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে—তারা এবার পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের গভীরে শক্ত ঘাঁটি তৈরির তোড়জোড় শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিন্ধু প্রদেশে টিটিপি-র পদার্পণ? (সৌজন্যে এক্স )
সিন্ধু প্রদেশে টিটিপি-র পদার্পণ? (সৌজন্যে এক্স )

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী টিটিপি সশস্ত্র সদস্যদের সিন্ধি ভাষায় সেখানকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে এবং সংগঠনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এবং ওই সশস্ত্র ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। তবে করাচিতে সন্দেহভাজন টিটিপি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক গ্রেফতারি ও সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটেই এই ভিডিওটি সামনে এসেছে।

ভিডিওতে এক সশস্ত্র ব্যক্তিকে 'সিন্ধের নিপীড়িত মানুষের' কাছে টিটিপিকে সমর্থন করার আবেদন জানাতে এবং অষ্টম শতকের আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের নাম স্মরণ করতে দেখা যায়; যিনি রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধ জয় করেছিলেন। বক্তা বলেছে, 'ইনশাল্লাহ', বিন কাসিম সিন্ধের মাটিতে যে 'ইসলামের পতাকা তুলে ধরেছিলেন, তা সেখানে আবারও উত্তোলন করা হবে। আফগান-পাকিস্তান (Af-Pak) অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা এই ভিডিওটিকে সিন্ধু প্রদেশে টিটিপির 'উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা' বলে বর্ণনা করেছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে প্রতিবেশী বালোচিস্তানে টিটিপি জঙ্গিরা ২৭ জন পাক পুলিশকর্মীকে হত্যা করে, যার মধ্যে পণবন্দি হওয়া ১৮ জন পুলিশকর্মীর দেহ পরবর্তীতে উদ্ধার হয়। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও করাচিতে টিটিপি-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত গ্রেফতারি ও অভিযানের খবর জানিয়ে আসছে; যার মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তান থেকে আসার পর গ্রেফতার হওয়া দুই সন্দেহভাজনও রয়েছে।

সপ্তাহান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে সিন্ধের এক টিটিপি ইউনিটের সশস্ত্র সদস্যদের দেখা গেছে। তার বক্তব্যের অনুবাদ অনুযায়ী, সিন্ধি ভাষায় ওই ব্যক্তিদের একজন বলছে, 'আমি সিন্ধের নির্যাতিত মানুষকে একটি বার্তা দিতে চাই। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানকে সমর্থন করুন।' বক্তা এরপর ১,৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ জয়ের কথা স্মরণ করেছে; যা ৭১২ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম ইসলামি শাসনের সূচনা করেছিল। ওই ব্যক্তি বলেছে, 'ইনশাল্লাহ, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, যখন সিন্ধের মাটিতে অনেক আগে মুহাম্মদ বিন কাসিম এসে রাজা দাহিরকে পরাজিত করে যে ইসলামের পতাকা উড়িয়েছিলেন, সেই ঝান্ডা আবারও উড়বে।' আরও বলেছে, 'মুহাম্মদ বিন কাসিমের মতো সন্তানরা আবারও সিন্ধের মাটির দিকে এগিয়ে আসছেন।'

ওই বন্দুকধারী সিন্ধের ঐতিহ্যবাহী সামন্ততান্ত্রিক ক্ষমতার কাঠামোর ওপরও আক্রমণ শানিয়েছে। সামন্ত ও উপজাতি প্রধানদের বোঝাতে ব্যবহৃত প্রচলিত শব্দ ‘ওয়াদেড়া’ ও ‘ভুট্টার’-দের নির্দেশে সাধারণ মানুষকে জীবন নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছে ওই ব্যক্তি। আবেদনের শেষে ওই ব্যক্তি বলে, 'ইসলামের জন্য এগিয়ে আসুন। ইসলামের জন্য প্রাণ দিন।'

এই ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় করাচির সাংবাদিক ভিঙ্গাস বলেন, এর ভাষা সিন্ধে নতুন প্রদেশ বা প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের পক্ষে থাকা ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের বয়ানের সঙ্গে মিলে যায়। প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটানো নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক তাহা সিদ্দিকিও এই ফুটেজটিকে টিটিপির সিন্ধ শাখার বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন; যেখানে স্থানীয়দের মুহাম্মদ বিন কাসিমের নাম করে সংগঠনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে সিদ্দিকি লিখেছেন, 'বার্তায় স্থানীয়দের টিটিপিতে যোগ দেওয়ার এবং মুহাম্মদ বিন কাসিমের মতো ইসলামি শাসন কায়েম করার ডাক দেওয়া হয়েছে; যে আরব আক্রমণকারী অষ্টম শতকে সিন্ধে হিন্দু নিধনের জন্য দায়ী ছিল।'

‘আফগানিস্তান থেকেই আসছে টিটিপির সদস্য’, দাবি সিন্ধ সরকারের

করাচিতে দুই সন্দেহভাজন টিটিপি জঙ্গিকে গ্রেফতারের বিষয়ে সিন্ধ কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (CTD) দাবির মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই ভিডিওটি সামনে এল। পাকিস্তানি সংবাদপত্র ডন-এর গত ৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিন্ধের সিটিডি ধৃত দু’জনকে উমর ফারুক এবং আব্দুল্লাহ হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা টিটিপির মুফতি সাদ গোষ্ঠীর সদস্য। সিটিডির তথ্য অনুযায়ী, তারা দু’জন আফগানিস্তান থেকে করাচিতে এসে রেঞ্জার্স ও পুলিশ কর্মী এবং সরকারি কার্যালয়গুলোতে রেইকি করছিল এবং হ্যান্ডলারদের কাছে তথ্য পাঠাচ্ছিল। সিটিডি আরও দাবি করে, তাদের কাছ থেকে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেডও উদ্ধার করা হয়েছে।

এর কয়েক দিন পরই করাচির গুলবাই-শের শাহ এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্স এবং সিটিডি যৌথ অভিযান চালায়। তারা জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজৌর এলাকার বাসিন্দা এবং টিটিপি-ঘনিষ্ঠ সন্দেহভাজন জঙ্গি কারি জিয়াউর রহমান ওরফে কারি সাইফুল্লাহ ১৩ সেপ্টেম্বর এক গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে। রেঞ্জার্সের দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালে এক সামরিক অভিযানের সময় রহমান আফগানিস্তানে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকা পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে প্রশিক্ষণ নেয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সম্প্রতি সে আফগানিস্তান থেকে করাচিতে ফিরে এসে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য নেটওয়ার্ক সংগঠিত করছিল।

অতএব, এই সাম্প্রতিক ভিডিওটি সিন্ধে পাকিস্তানি তালিবানের প্রথম আগমনের কোনও প্রমাণ নয়। সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টাল (SATP)-এর তথ্য অনুযায়ী, সিন্ধে টিটিপি সংক্রান্ত গ্রেফতারির ঘটনা ২০০৮ সাল থেকে চলে আসছে। তাদের নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে সিন্ধে চারটি পৃথক ঘটনায় ৯ জন গ্রেফতার হয়েছিল; আর ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়টি ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। করাচির সাংবাদিক ভিঙ্গাস যে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন, তা হলো এই সাম্প্রতিক ভিডিওর বার্তার ধরন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks