স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশজুড়ে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে ভারত। কেন্দ্রের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত শেহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। এবং ১৪টি রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে ২০০-র বেশি সন্দেহভাজনকে পাক গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে এই অভিযান নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। তাঁর দাবি, আইএসআই-সমর্থিত এই নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেনেড, বিস্ফোরক এবং পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। কিছু অস্ত্রে পাকিস্তানের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপও মিলেছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। আর এই সবের পরই নড়চড়ে বসেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়েছে, এই সবের সাথে তারা জড়িত না।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ভারতের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানকে ভারতের গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া ভিত্তিহীন। পাকিস্তানের দাবি, এ ধরনের অভিযোগ আসলে ভারতের ‘প্রচার’। তাদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন থেকে নজর সরাতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে। পাকিস্তানি মুখপাত্র আরও দাবি করেছেন, ইসলামাবাদ এই ধরনের অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তানকে ঘিরে এমন প্রচার ভারতের ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারাভিযান’-এর অংশ।
এদিকে পাকিস্তান যাই বলুক, ভারতে এই অভিযানগুলোতে যে শুধু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তেমনটা নয়। অভিযানে বেশ কিছু নজরদারি সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এগুলি ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হচ্ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বহু মোবাইল নম্বর এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের উপর নজর রাখছিল বলেও জানা গিয়েছে। অসমে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সও অভিযান চালায়। সেখানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ জুলাই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। উদ্ধার করা হয় মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাংকের নথি এবং অন্যান্য কাগজপত্র।
এরপর দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানাতেও অভিযান চালানো হয়। পঞ্জাবের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ৪০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। হরিয়ানা এসটিএফ প্রায় ৯০ জন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। দিল্লিতেও ২০-র বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এরপর দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানাতেও অভিযান চালানো হয়। পঞ্জাবের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ৪০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। হরিয়ানা এসটিএফ প্রায় ৯০ জন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। দিল্লিতেও ২০-র বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}তদন্তে আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ উঠেছে। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীদের উপর হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি হামলার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। উত্তরপ্রদেশের একটি ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিকের উপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তাদের অভিযোগ, দিল্লি ও পঞ্জাবের জনবহুল হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের অবস্থানও পাঠানো হয়েছিল। দিল্লির একটি ঐতিহাসিক মন্দির এবং হিসারের একটি সামরিক ঘাঁটির জিপিএস লোকেশন ও ভিডিও পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। একটি খাবারের দোকানকেও সম্ভাব্য গ্রেনেড হামলার লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। ফলে বিষয়টি শুধু গুপ্তচরবৃত্তিতে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।