...
...
Next Story

Israel attacks Iran: ট্রাম্পের অনুরোধ অগ্রাহ্য! ইরানে পাল্টা এয়ারস্ট্রাইক ইজরায়েলের, মধ্যপ্রাচ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধের সূচনা?

Israel attacks Iran: ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর দাবি, তারা ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হেনেছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য দেয়নি তেহরান। জানা গিয়েছে, ইরানের রাজধানী-সহ একাধিক শহরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।

Published on: Jun 8, 2026, 11:45:27 IST
Advertisement

Israel attacks Iran: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধ সত্ত্বেও ইজরায়েলের পাল্টা হামলায় উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য। রবিবার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতে সোমবার ভোর থেকেই ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালালো ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহান, তাবরিজ, কারাজ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে আকাশ। এই হামলার ফলে সংঘর্ষবিরতির সমস্ত সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে ফের যুদ্ধের আগুনে ঝাঁপ দিল মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান শক্তি।

ইরানে পাল্টা এয়ারস্ট্রাইক ইজরায়েলের
ইরানে পাল্টা এয়ারস্ট্রাইক ইজরায়েলের

সূত্রের খবর, ইরান ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরপরই পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্রিয় হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা ফোনে কথা বলেন তিনি। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা ছিল, এই মুহূর্তে যেন ইজরায়েল ইরানে কোনও প্রত্যাঘাত না করে। ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন এবং ইজরায়েলি পাল্টা হামলা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের সেই আবেদনকে কার্যত অগ্রাহ্য করেই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর দাবি, তারা ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হেনেছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য দেয়নি তেহরান। জানা গিয়েছে, ইরানের রাজধানী-সহ একাধিক শহরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। তেহরানের পশ্চিমে কারাজেও বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইজরায়েলের সেনা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী সম্প্রতি পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করেছে।

এদিকে, রবিবার রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইজরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটি রামাত ডেভিডকে লক্ষ্যস্থল করেছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, 'আজ রাতের অভিযান একটি হুঁশিয়ারি আর যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত হবে আর তা এই অঞ্চলের সব আমেরিকানদের লক্ষ্যস্থলকে অন্তর্ভুক্ত করবে।' ইরানি সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ইজরায়েল যদি লেবানন ও ইরানে এই আগ্রাসন অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এমন এক চরম ধ্বংসাত্মক ও নজিরবিহীন জবাব দেওয়া হবে যা ইজরায়েল কল্পনাও করতে পারছে না। জানা যাচ্ছে, রবিবার দক্ষিণ বেইরুটে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। এই হামলায় ২ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। নেতানিয়াহু জানান, উত্তর ইজরায়েলে বোমা হামলার পাল্টা এই অভিযান চালিয়েছে তাঁরা। তাঁদের টার্গেট ছিল হেজবোল্লার কমান্ড সেন্টার। এরপরেই যুদ্ধবিরতির মাঝে ইজরায়েলের বেইরুট হামলার পালটা রাতেই ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘এখনই বিবিকে (নেতানিয়াহু) ফোন করব। বলব, তিনি যেন পাল্টা আক্রমণ না করেন।’ জানা যায়, তিনি নেতানিয়াহুকে ফোন করে যুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ট্রাম্পের সে পরামর্শ যে নেতানিয়াহু কানে তোলেননি সোমবারের হামলা তারই প্রমাণ।

আন্তর্জাতিক মহলে এনিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার স্বপ্ন এখন বড়সড়ো ধাক্কার মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, ইজরায়েল ও ইরানের এই সরাসরি সামরিক সংঘাত কেবল এই দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সমগ্র পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নেতানিয়াহু কী ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য করে বড় কোনও আঞ্চলিক যুদ্ধের পথে পা বাড়ালেন? তেহরান এরপর কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব। শান্তির পথ কী তবে চিরতরে রুদ্ধ হয়ে গেল? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক চাল? উত্তরের প্রতীক্ষায় অস্থির আন্তর্জাতিক রাজনীতি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks