Israel-Iran: ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি। এমনটাই দাবি করলেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ। একই সঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের পক্ষ নিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
গত বছর থেকে দুই দফায় ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বোমা হামলার শিকার হওয়া ইরান আবারও পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে নতুন করে অভিযোগ করেছেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তবে তেহরান বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। এক অনুষ্ঠানে ইজরায়েল কাৎজ বলেন, 'ইরানের ক্ষেত্রে আমাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি। ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা আবার শুরু করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তারা আরও কিছু গুরুতর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা ইজরায়েল রাষ্ট্রকে প্রকৃত বিপদের মুখে ফেলছে।'
এদিকে, রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এতে সমর্থন রয়েছে কিনা, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের কারণে বড় ধরনের ধাক্কা ও পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। ইজরায়েলি চ্যানেল ১২ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত ২৭ অক্টোবরের ইজরায়েলি নির্বাচনের ঠিক আগে নেতানিয়াহু এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পেরে শেষ মুহূর্তে তা আটকে দেয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজাভিত্তিক প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইজরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের মদতপুষ্ট হামাসের ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায় ইজরায়েল। পরে ইরানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লা ইজরায়েলে হামলা শুরু করলে লেবাননেও অভিযান চালায় দেশটি। এছাড়া ২০২৪ সালে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটির ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষ ইজরায়েল পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি রেখা অতিক্রম করে সিরিয়ার একটি অংশ দখলে নেয়। কাৎজ বলেন, গাজা, 'লেবানন ও সিরিয়ার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো থেকে আমরা সরে আসব না। সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লা যদি ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের অত্যন্ত কঠোর আঘাত সহ্য করতে হবে।'
{{/usCountry}}২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজাভিত্তিক প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইজরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের মদতপুষ্ট হামাসের ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায় ইজরায়েল। পরে ইরানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লা ইজরায়েলে হামলা শুরু করলে লেবাননেও অভিযান চালায় দেশটি। এছাড়া ২০২৪ সালে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটির ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষ ইজরায়েল পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি রেখা অতিক্রম করে সিরিয়ার একটি অংশ দখলে নেয়। কাৎজ বলেন, গাজা, 'লেবানন ও সিরিয়ার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো থেকে আমরা সরে আসব না। সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লা যদি ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের অত্যন্ত কঠোর আঘাত সহ্য করতে হবে।'
{{/usCountry}}গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ক্ষতির মুখে পড়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইজেনকোট ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে বলেছেন, নেতানিয়াহুর হাতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার ম্যান্ডেট নেই। প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক প্রয়োজন’ মেটাতে সেনাবাহিনীর যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে প্রাক্তন এই সেনাপ্রধান নেতানিয়াহুর যুদ্ধসংক্রান্ত বেশির ভাগ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এসেছেন। রবিবার ১৯৫৬ সালে মিশরে হামলায় নিহত ইজরায়েলি সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ। সেখানে তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'আমাদের মধ্যে তর্ক হতে পারে, মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যখন ঝুঁকির মুখে, তখন নিজেদের বিরোধের ঊর্ধ্বে ওঠার সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে।'