...
...
Next Story

ISRO Update: ইসরো বেসরকারি হচ্ছে না! জল্পনায় জল ঢেলে স্পষ্ট বার্তা, ‘গুরুত্ব কমবে না’

এক বিবৃতিতে ইসরো জানিয়েছে, তাদের বেসরকারিকরণ করা হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল। দেশের উন্নত মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি বিকাশ, জাতীয় ও কৌশলগত অভিযান, মহাকাশবিজ্ঞান, অনুসন্ধান এবং গুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইসরোই ভারতের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে।

Published on: Sep 6, 2026, 22:57:11 IST
Advertisement

ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনায় এবার জল ঢালল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। রবিবার স্পষ্ট ভাষায় ইসরো জানিয়েছে, সংস্থাকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। একইসঙ্গে মহাকাশ গবেষণা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইসরোর গুরুত্ব কমানোর প্রশ্নও নেই। কয়েক দিন আগে ইসরোর কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী একাধিক সংগঠন সংস্থার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরেই এই বক্তব্য সামনে এল।

ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনায় এবার জল ঢালল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। (ISRO)
ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনায় এবার জল ঢালল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। (ISRO)

এক বিবৃতিতে ইসরো জানিয়েছে, তাদের বেসরকারিকরণ করা হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল। দেশের উন্নত মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি বিকাশ, জাতীয় ও কৌশলগত অভিযান, মহাকাশবিজ্ঞান, অনুসন্ধান এবং গুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইসরোই ভারতের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে। অর্থাৎ, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোর মূল দায়িত্ব ও গুরুত্ব অপরিবর্তিত থাকবে।

ইসরোর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে মহাকাশ ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা সংস্থার গুরুত্ব কমানোর জন্য নয়। বরং মহাকাশ অর্থনীতির পরিসর বাড়ানো এবং গোটা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই বেসরকারি শিল্প, স্টার্ট-আপ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি করে যুক্ত করা হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সম্প্রসারণে ভূমিকা নেবে। আর ইসরো আরও বেশি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং জটিল মহাকাশ অভিযানে মনোযোগ দিতে পারবে।

ইসরো এটিকে ‘বেসরকারিকরণ’ না বলে ‘ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সংস্থার মতে, মহাকাশ ক্ষেত্রে যত বেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত হবে, ততই দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়বে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা বা দায়িত্ব হস্তান্তরের বদলে সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও বড় করার পথেই এগোনো হচ্ছে।

কর্মী সংগঠনগুলির উদ্বেগের মূল জায়গা ছিল, ইসরোর উৎপাদন এবং অপারেশন সংক্রান্ত কিছু দায়িত্ব যদি বেসরকারি সংস্থার হাতে যায়, তা হলে বর্তমান কর্মীদের ভূমিকা কী হবে এবং ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে তার কী প্রভাব পড়বে। এই প্রশ্নগুলির পাশাপাশি ইসরোর দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও স্পষ্টতা চাওয়া হয়েছিল।

এই বিতর্কের মধ্যেই ইসরোর পক্ষ থেকে এমন সময়ে নিশ্চয়তা এল, যখন সংস্থাটি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর GSLV-F17-এর মাধ্যমে EOS-05 উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন এই সাফল্যকে দেশের মহাকাশ কর্মসূচির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ঠিক পরের দিন, ৫ সেপ্টেম্বর, সেমি-ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনের পাওয়ার হেড টেস্ট আর্টিকলের ১০০ শতাংশ থ্রাস্টে সফল হট টেস্টও করে ইসরো।

ফলে এই মুহূর্তে স্পষ্ট, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেই বার্তা দিয়েছে সংস্থা। বরং ভবিষ্যতে চাঁদ, মঙ্গল, মানব মহাকাশ অভিযান এবং অত্যাধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার জন্য বেসরকারি শিল্পকে কাজে লাগানো হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe