Maharashtra FDA Commissioner: মাত্র ১১ টাকার একটি আইভি (ইন্ট্রাভেনাস) সেটের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক মুমূর্ষু রোগীর থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩২৫ টাকা—যার মুনাফার হার ২,৮০০ শতাংশেরও বেশি! ৬ টাকা ৭৫ পয়সার একটি ১০ মিলি সিরিঞ্জের দাম নেওয়া হচ্ছে ৫৭ টাকা ২০ পয়সা, যা আসল দামের তুলনায় ৭৪৭ শতাংশ বেশি। ২২ টাকা ৫০ পয়সার একটি আইভি ক্যানুলা বিক্রি হচ্ছে ৪২৪ টাকায়, যা তার ক্রয়মূল্যের প্রায় ১৯ গুণ। একইভাবে মাত্র ৪০ টাকার একটি নেবুলাইজার মাস্কের জন্য রোগীর বিলে ধরা হচ্ছে ৭১৫ টাকা, অর্থাৎ ১,৬৮৭ শতাংশ অতিরিক্ত মুনাফা!

এগুলো কোনও বানানো সংখ্যা নয়। রিটেল ও পাইকারি বাজারে বিক্রি হওয়া চিকিৎসা সরঞ্জামের দামের ফারাক খতিয়ে দেখতে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর অধীনে 'মহারাষ্ট্র স্টেট প্রাইস মনিটরিং রিসোর্স ইউনিট' (MSPMRU)-এর পরিচালিত এক সমীক্ষায় এমনই চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, এটি বাণিজ্যিক স্তরে অবাধ মুনাফা লাভ ও রোগীদের পকেট কাটার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, হাসপাতালের ইনপেশেন্ট বিভাগে (IPD) ব্যবহৃত বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদন বা ক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্যাকেটের গায়ে মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের (MRP) মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে।
সমীক্ষায় ঠিক কী কী তথ্য উঠে এসেছে?
তদন্তকারীরা আইভি সেট, সিরিঞ্জ, নেবুলাইজার অক্সিজেন মাস্ক-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী খতিয়ে দেখে দেখেছে যে অপরিহার্য সরঞ্জামের ওপর ক্রয়মূল্যের চেয়ে ২৯ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম চাপানো হচ্ছে।
আইভি সেট: হরিয়ানার 'মেডিপ্লাস'-এর তৈরি 'মেডিফিউশন আইভি সেট'-এর ক্রয়মূল্য ছিল মাত্র ১১.০৫ টাকা, অথচ তার এমআরপি ধার্য করা হয় ৩২৫ টাকা—মুনাফার হার ২,৮৪১ শতাংশ! একইভাবে 'লাইভোফিউশন' নামের অপর এক প্রস্তুতকারক সংস্থার পণ্যে ২,০৯১ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা ধরা হয়েছে।
সিরিঞ্জ: দিল্লির 'লাইফলং মেডিটেক'-এর তৈরি একটি সাধারণ ১০ মিলি সিরিঞ্জ ৬.৭৫ টাকায় কেনার পর তা ৫৭.২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, 'রমসন'-এর তৈরি ছুঁচ বা নিডল কেনাদামের তিন গুণ মূল্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
{{/usCountry}}সিরিঞ্জ: দিল্লির 'লাইফলং মেডিটেক'-এর তৈরি একটি সাধারণ ১০ মিলি সিরিঞ্জ ৬.৭৫ টাকায় কেনার পর তা ৫৭.২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, 'রমসন'-এর তৈরি ছুঁচ বা নিডল কেনাদামের তিন গুণ মূল্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
{{/usCountry}}নেবুলাইজার ও অক্সিজেন মাস্ক: 'ভিনজোহ হেলথকেয়ার'-এর তৈরি প্রাপ্তবয়স্কদের একটি নেবুলাইজার মাস্ক কিটের দাম ৪৫ টাকা হলেও রোগীদের থেকে নেওয়া হচ্ছিল ৬৫২ টাকা।
অন্যান্য সামগ্রী: 'রিবেল'-এর তৈরি একটি ক্যাথেটার তার মূল ক্রয়মূল্য ২৯.৪১ টাকার চেয়ে ১০ গুণ বেশি দামে রোগীদের ওপর চাপানো হয়েছে।
কী পদক্ষেপ চাইছেন তুকারাম মুন্ধে?
এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিকে 'অযৌক্তিক এবং অন্যায্য' আখ্যা দিয়ে হাসপাতালে ব্যবহৃত সাধারণ সামগ্রীগুলির দাম পুনর্বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর কমিশনার তুকারাম মুন্ধে। কেন্দ্রীয় ফার্মাসিউটিক্যালস দফতরের সচিবকে লেখা এক চিঠিতে তুকারাম মুন্ধে লিখেছেন, 'এই মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অনৈতিক। কারণ প্রাথমিক ক্রয়মূল্যের মধ্যেই প্রস্তুতকারক সংস্থার উৎপাদন, পণ্য উন্নয়ন, বিপণন, বণ্টন এবং নিজস্ব লাভের অঙ্ক সম্পূর্ণ যুক্ত থাকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসার স্বার্থে এই সার্জিক্যাল সামগ্রীগুলি অপরিহার্য হওয়ায়, ইনপেশেন্ট বিভাগে তাঁদের দরদাম করার কোনও সুযোগই থাকে না।'
এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সাধারণ সার্জিক্যাল সামগ্রীগুলিকে অবিলম্বে 'ড্রাগস (প্রাইসেস কন্ট্রোল) অর্ডার' (DPCO), ২০১৩-এর নিয়ন্ত্রণাধীনে আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তুকারাম মুন্ধে। চিঠিতে তিনি আরও সতর্ক করে লেখেন, 'ডিপিসিও ২০১৩-র আওতায় কঠোর সংবিধিবদ্ধ মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা (প্রাইস ক্যাপ) না থাকার সুযোগ নিয়ে বাণিজ্যিক স্তরে লাগামহীন মুনাফাবাজি চলছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর এক চরম ও অন্যায্য আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।' প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে তিনি পর্যালোচনা, ট্রেড মার্জিনের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার মতো নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নজরদারি ব্যবস্থা আরও কঠোর করার সুপারিশ করেছেন।