আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতা নিয়ে পাকিস্তানের হম্বতম্বির মাঝেই ফের মুখ পুড়ল ইসলামাবাদের! যে আমেরিকার সঙ্গে গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফের সরকার ঘনিষ্ঠ সখ্যতায় মত্ত, সেই আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এদিন কার্যত স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন যে, পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই!
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেপুটি ভান্সের তরফে আসা এদিনের বক্তব্য নিঃসন্দেহে ইসলামাবাদকে আরও এক অস্বস্তিতে রেখে দিল দুনিয়ার সামনে! একটি পডকাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বলেছেন যে, ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে বিলম্বের আংশিক কারণ ছিল পাকিস্তানের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংক্রান্ত মানদণ্ড। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫ জুন অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, তবে সমঝোতা স্মারকটির আনুষ্ঠানিক বয়ান দুই দিন পর প্রকাশ করা হয়েছিল। ভান্স বলছেন, স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওয়াশিংটন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে সময় নিয়েছিল।
ওই সাক্ষাৎকারে ভান্স বলেন,'আমরা আসলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, এখানে ভুল বোঝাবুঝির একটি কারণ হল-পাকিস্তান ও কাতারের ব্যবস্থায় ঠিক যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ (বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানকারী আইন) বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো বিষয়টি সেভাবে নেই।' পাকিস্তানের অন্দরে সেদেশের সংবাদমাধ্যমের অবস্থা সম্পর্কে খোদ পাকিস্তানেরই ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে এই বার্তা নিঃসন্দেহে বিশ্ব কূটনৈতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারে। এদিকে, ভান্স ওই সাক্ষাৎকারে বলেন,' সুতরাং, (পাকিস্তানে) এমন কোনো প্রত্যাশা নেই যে লেখাটি আমেরিকান জনগণের কাছে এমনভাবে প্রকাশ করা হবে যাতে তারা নিজেরা তা খতিয়ে দেখতে, বিশ্লেষণ করতে এবং বুঝতে পারে। কিন্তু এটি প্রকাশ করতে হত।'
ডেমোক্র্যাটদের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য প্রকাশ করা হয়। সমালোচকরা এমনও ধারণা করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য গোপন করছিল কারণ সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে এই চুক্তির আওতায় ইরানকে হয়তো বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল আমেরিকার তরফে। আর তা লুকোতেই তথ্য গোপনের চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে এই স্মারক প্রকাশে দেরি হওয়ার কারণ হিসাবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।
{{/usCountry}}ডেমোক্র্যাটদের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য প্রকাশ করা হয়। সমালোচকরা এমনও ধারণা করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য গোপন করছিল কারণ সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে এই চুক্তির আওতায় ইরানকে হয়তো বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল আমেরিকার তরফে। আর তা লুকোতেই তথ্য গোপনের চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে এই স্মারক প্রকাশে দেরি হওয়ার কারণ হিসাবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম।
{{/usCountry}}