...
...
Next Story

Election Commissioner Appointment: 'ভুল হয়েছিল!'কেন্দ্রকে সমর্থন করে আফশোস, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জগনের

Election Commissioner Appointment: ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন বদল করে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আনা হয় তিন সদস্যের কমিটিতে।

Published on: Oct 19, 2026, 17:35:06 IST
Advertisement

Election Commissioner Appointment: রাজনৈতিক অবস্থানের বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির (ওয়াইএসআরসিপি)। নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শাসক দলের একক প্রভাব বজায় রাখার আইনকে সংসদে সমর্থন করা তাঁদের ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করে নিলেন ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি প্রধান তথা অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি। তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্যানেলের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করা উচিত।

ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি প্রধান তথা অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি
ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি প্রধান তথা অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি

২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন বদল করে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আনা হয় তিন সদস্যের কমিটিতে। বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়ায় জোট গোড়া থেকেই এই নিয়ে সরব। তিন সদস্যের কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সামনে লোকসভার বিরোধী দলনেতার মতামত গুরুত্ব পাবে না, সরকার নিজের পছন্দের ব্যক্তিকেই ক্ষমতায় বসাবে বলে অভিযোগ ওঠে। জগন মোহন রেড্ডির দল যদিও সেই সময় সংসদে সংশোধিত আইনে সমর্থন জানায়, অর্থাৎ কেন্দ্রের পাশে দাঁড়ায়। সম্প্রতি নিয়ে ভূরি ভূরি অনিয়ম, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে যখন উত্তাল গোটা দেশ, আবারও সেই প্রশ্ন উঠে এসেছে সামনের সারিতে। আদালতেও পৌঁছেছে বিষয়টি। সেই আবহেই নিজের আগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন জগন মোহন রেড্ডি।

রবিবার অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিলের ক্ষেত্রে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করে তাঁর দল ‘ভুল করেছিল।’ তাঁর কথায়, 'এখন আমরা সেই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক জন মন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা—এই তিন সদস্যের কমিটির হাতে নির্বাচন করার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া আমাদের ভুল হয়েছিল বলে আমরা বুঝতে পেরেছি।' নির্বাচনকে পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, 'পরীক্ষার্থী নিজে পরীক্ষক হতে পারে না। নির্বাচন কমিশনার যদি সৎও হন, পক্ষপাতদুষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর নিযুক্তি হল, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থেকে যায়।' জগনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থার ফলে নির্বাচন কমিশনের গঠন ও ভারসাম্য একদিকে ঝুঁকে পড়েছে।

২০২৪ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হন জগন। এখন সেখানকার নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাধিক রিপোর্ট উঠে এসেছে, যেখানে এনডিএ শিবির এবং বিজেপি-র শরিক তেলুগু দেশম পার্টির বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয় নির্বাচনে হামলা, ভীতি প্রদর্শন এবং পুলিশকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের মনোনয়নেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর তাতেই ‘অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি’তে নির্বাচন করানো নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা যাতে প্রস্তুতি নিতে না পারে, সেই সময় দেখেই, সবরকম ব্যবস্থা করেই নির্বাচনের ঘোষণা হয়। পাশাপাশি, এসআইআর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ৪৬ লক্ষ ভুয়ো ভোটার থেকে থাকলে কেন সেই তালিকা ধরে নির্বাচন করানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিশনের ভূমিকায়।

জগন মোহন রেড্ডির এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই সমর্থন করেছিল ওয়াইএসআরসিপি। অথচ সেই সময় বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নির্বাচন কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে এই প্রথম প্রশ্ন তুললেন না জগন মোহন রেড্ডি। এর আগে সেপ্টেম্বরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকলেই একমাত্র গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে।’

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks