দেশকে চমকে দিয়ে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনকড়। তারপর কেটে গিয়েছে এক বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু এখনও সরকারি বাংলো পাননি ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি। ফলে আপাতত ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি ফার্মহাউসেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌটালার ছেলে অভয় সিং চৌটালার ওই ফার্মহাউস রয়েছে দিল্লির ছত্তরপুরে। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রায় ছয় সপ্তাহ পরে সেখানে থাকতে শুরু করেন ধনকড়। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি ছিল, এটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা। কয়েকদিনের জন্য সেখানে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও বদলায়নি সেই ঠিকানা।
প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে ধনকড়ের বেশ কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল সরকারি বাসভবন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি নিজের পছন্দের জায়গায় টাইপ-৮ স্তরের একটি সরকারি বাংলো পাওয়ার অধিকারী। টাইপ-৮ বাংলো কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন ব্যবস্থায় অত্যন্ত উচ্চ স্তরের বাসভবন। এই বাংলোর জন্য সাধারণত ভাড়া দিতে হয় না। জল এবং বিদ্যুতের খরচও বহন করার কথা সরকারের। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য নির্দিষ্ট সুবিধাও নিয়মের আওতায় থাকে।
শুধু বাংলো নয়। প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতিদের জন্য পেনশন এবং আরও একাধিক সুযোগ রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্টস পেনশন অ্যাক্ট, ১৯৯৭ অনুযায়ী মাসিক ২ লক্ষ টাকা পেনশনের ব্যবস্থাও রয়েছে। রেল ও বিমানযাত্রা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধাও প্রাপ্য। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, এতদিনেও ধনকড় কেন সরকারি বাসভবন পেলেন না?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত তাঁর জন্য কোনও সরকারি বাংলো বরাদ্দের তথ্য মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে ধনকড়ের দফতরের কাছ থেকেও স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
{{/usCountry}}এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত তাঁর জন্য কোনও সরকারি বাংলো বরাদ্দের তথ্য মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে ধনকড়ের দফতরের কাছ থেকেও স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
{{/usCountry}}তাঁর আগে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু। ২০২২ সালের অগস্টে পদ ছাড়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর জন্য দিল্লিতে সরকারি বাংলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ধনকড়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ধনকড় বর্তমানে শারীরিকভাবেও অসুস্থ। জুলাই মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে জয়পুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। হৃদরোগের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর তাঁর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
এই অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সরকারি বাসভবন না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। জগদীপ ধনকড় অবশ্য পুরো বিষয়টি নিয়ে নীরব। কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সংক্রান্ত মন্ত্রকের তরফেও এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
ধনকড়ের রাজনৈতিক জীবনে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন। রাজ্যপাল থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে রাজ্যের তৎকালীন সরকারের একাধিকবার প্রকাশ্য সংঘাত হয়েছিল। পরে ২০২২ সালে দেশের উপরাষ্ট্রপতি হন তিনি। কিন্তু ২০২৫ সালের ২১ জুলাই হঠাৎই সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যগত বিষয়কে সামনে রাখা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি এবং প্রকাশ্য কর্মসূচি থেকে দূরে সরে যান তিনি।
এখন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অন্যের ব্যক্তিগত ফার্মহাউসে তাঁর বসবাস নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির জন্য যখন নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা এবং আবাসনের নিয়ম রয়েছে, তখন সেই সুবিধা এখনও কেন কার্যকর হয়নি- তার উত্তর এখনও অজানা। ফলে ধনকড়ের সরকারি বাংলো না পাওয়া এখন শুধুই আবাসনের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সরকারি নিয়ম এবং দেশের এক প্রাক্তন সাংবিধানিক পদাধিকারীকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন।