ইরানের যুদ্ধের মাঝে এখনও বহু ভারতীয় পড়ুয়া আটকে রয়েছেন। তারা যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে তাদের উদ্ধার করা হয়। এরই মাঝে আজ সংসদে দাঁড়িয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাফ জানালেন, ভারতের তরফ থেকে আগে একাধিকবার ইরান ছাড়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের। সেই পরামর্শ শোনেনি তখন তারা। এরই সঙ্গে জয়শঙ্কর আজ সংসদে জানালেন, ৬৭ হাজার ভারতীয় পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন এখনও পর্যন্ত। সঙ্গে জয়শঙ্কর আরও জানান, আটকে পড়া সকল ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফেরাতে সব রকমের চেষ্টা করছে সরকার।

এদিকে সংসদে আজ জয়শঙ্কর বলেন, পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধে ভারতে বেশ উদ্বিগ্ন। এরই সঙ্গে 'আলোচনা এবং কূটনীতির' মাধ্যমে এই যুদ্ধ থামানো উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। সংসদে জয়শঙ্কর বলেন, 'পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ থাকা উচিত। পশ্চিম এশিয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী। বাণিজ্য ক্ষেত্রেও পশ্চিম এশিয়া ভারতের অংশীদার। এই চলমান সংঘাতের জেরে সরবরাহ শৃঙ্খল গুরুতর ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার দুবাই, ওমান থেকে কুয়েতে কয়েক লাখ ভারতীয় কাজ করেন। এদিকে ইরানে কয়েক হাজার ভারতীয় পড়াশোনা করেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে অনেক ভারতীয় পশ্চিমা বিশ্বের সংযোগকারী বিমান ধরেন। এই সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বহু ভারতীয় আটকে পড়েছিলেন পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশে। তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু দুবাই বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় তাঁর অল ইংল্যান্ড ওপেনে খেলতে যাওয় হয়নি। এদিকে ভারতের জাতীয় বাস্কেটবল দলও পশ্চিম এশিয়ায় আটকে পড়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলার পরে ইরান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল। আর তাই সেখানে আটকে পড়েছিলেন বহু ভারতীয়। এই আবহে বিদেশ মন্ত্রক একটি ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করেছে। এদিকে পশ্চিম এশিয়ার আকাশ আংশিক ভাবে খুলে গেলেও এখন বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি।