পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমেই বাড়ছে সংঘাতের আঁচ। এক দিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, অন্য দিকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি। তার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ভারত। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরে গেলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার আবুধাবিতে সে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতি এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় দুই দেশের মধ্যে। পাশাপাশি, বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের মতো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারেরও জোরালো সওয়াল করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে দেশগুলিকে নতুন সহযোগিতার পথ খুঁজতে হবে।
বিশ্বব্যবস্থার সংস্কার জরুরি

আবুধাবিতে আয়োজিত রাইসিনা মিডল ইস্ট আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘাত এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনাও সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। এই পরিস্থিতিতে পুরনো কূটনৈতিক কাঠামোর উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না।
জয়শঙ্করের বক্তব্য, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে যাতে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা এবং বিভিন্ন দেশের স্বার্থ যথাযথ ভাবে প্রতিফলিত হয়, তার জন্য উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে কয়েকটি দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে আরও কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের ছোট গোষ্ঠীভিত্তিক সহযোগিতা বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির গত এক দশকের সম্পর্ককে এই নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার উদাহরণ হিসাবেও তুলে ধরেছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে দেশগুলিকে প্রচলিত চিন্তাভাবনার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে এবং কৌশলগত সচেতনতা বাড়াতে হবে।
অর্থনীতি থেকে নিরাপত্তা, সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা
আবুধাবিতে শেখ আবদুল্লা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বিস্তৃত কৌশলগত সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন জয়শঙ্কর। অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}আবুধাবিতে শেখ আবদুল্লা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বিস্তৃত কৌশলগত সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন জয়শঙ্কর। অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে ইতিমধ্যেই সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়েও মত বিনিময় করেন দুই বিদেশমন্ত্রী।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ
জয়শঙ্করের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার উপরেও পড়ছে। গত ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার কাছে নোঙর করে থাকা পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি জেম নম্বর ২-এ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই জাহাজে থাকা ২২ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ভারতের কাছে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি আমদানি, বাণিজ্য এবং বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের বসবাসের কারণে এই অঞ্চলের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের দাবি একই সঙ্গে সামনে আনল ভারত। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে নতুন অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে নয়াদিল্লি।