বাংলাদেশে ভোটের আগে জামাত বলেছিল, উৎসব হবে, বাংলাদেশের পুনর্জন্ম হবে। ভোটের গণনা চলাকালীনও জামাতের আমির শফিকুর রহমান নিজেই বলেছিলেন, কোনও দল মানুক না মানুক, জামাত মানুষের মতকে মেনে নেবে। তবে ভোটের ফলে জামাতের পরাজয় নিশ্চিত হতেই এবার ধীরে ধীরে সুর পালটাতে শুরু করেছে দলটি। জামাতের অভিযোগ, নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ নিয়ে গড়িমসি চলছে। এই আবহে নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা ব্যাখ্যা চেয়েছে।

আজ ভোর ৪টের সময় নির্বাচন কমিশনের অফিসে পৌঁছে গিয়েছিলেন জামাতের প্রতিনিধিরা। সেখানে সাংবাদিকদের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, 'একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতেই ফল নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হতে দেখেছি আমরা। এখন রাত ৪টা বাজে, আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করছি, কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্ব করছে নির্বাচন কমিশন। আমরা সারা দেশের আসন পর্যালোচনা করেছি, একই ধরনের চক্রান্তের গন্ধ আমরা পাচ্ছি। ইচ্ছাকৃতভাবে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এটি করা হচ্ছে। আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এ চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দূর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলব।'
৩০০টি আসনের মধ্যে ২০০টিরও বেশি আসনে বিএনপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা জয়ী হয়েছে। তবে নিজেদের সবথেকে 'সম্ভাবনাময়' নির্বাচনে জামাতে ইসলামি জোট ৫০ পার করেছে। এবং এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া পশ্চিম বাংলাদেশ এবং উত্তর বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে একচেটিয়া ভাবে জয়ী হয়েছে তারা। খুলনা এবং রাজশাহী ডিভিশনের সবকটি সীমান্তবর্তী আসনে জামাতে ইসলামি জয়ী হয়েছে। এদিকে উত্তরবঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া রংপুর ডিভিশনে অবশ্য বিএনপি অধিকাংশ আসন জিতেছে। তবে কোচবিহার লাগোয়া নীলফামারি, গাইবান্ধা, রংপুর উপজেলায় আবার অধিকাংশ আসনে জামাতে ইসলামি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সারা দেশে বিএনপি জোটের ঝুলিতে ২০৮টি আসন গিয়েছে। এদিকে জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে গিয়েছে ৭০টি আসন।