জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার এবং ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী বয়ানকে কার্যত উড়িয়ে দিল রাষ্ট্রসংঘ। এরই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে নিজেদের দীর্ঘদিনের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করল রাষ্ট্রসংঘ। রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়েছে, কাশ্মীর সংক্রান্ত ১৯৪৯ সালের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলির অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। একই সঙ্গে কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হককে ভারতের ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন প্যালেস্টাইনের সাংবাদিক আবদুল হামিদ। তাঁর দাবি ছিল, ভারতের এই সিদ্ধান্ত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিতে পরিবর্তন এনেছে এবং তা রাষ্ট্রসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। সেই প্রশ্নের জবাবেই রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ফারহান হক বলেন, ১৯৪৯ সাল থেকে কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের যে প্রস্তাবগুলি রয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলেই অবগত। সেই প্রস্তাবগুলির কোনও পরিবর্তন হয়নি। পাশাপাশি কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক অধিকার যাতে সম্মানিত হয়, সে বিষয়েও রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগের কথা জানান তিনি। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন হক।
কাশ্মীর প্রশ্নে রাষ্ট্রসংঘের ঐতিহাসিক ভূমিকার সূত্রপাত ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়। ১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রসংঘের কমিশন ফর ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান (UNCIP) একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। সেখানে কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি ‘মুক্ত ও নিরপেক্ষ গণভোট’-এর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল।
তবে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান বরাবরই আলাদা। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ- দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাশ্মীর নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা বা আন্তর্জাতিকীকরণেরও বিরোধিতা করে ভারত। পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের একটি অংশ ‘অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল’ করে রেখেছে বলেও নয়াদিল্লি দাবি করে আসছে।
{{/usCountry}}তবে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান বরাবরই আলাদা। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ- দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাশ্মীর নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা বা আন্তর্জাতিকীকরণেরও বিরোধিতা করে ভারত। পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের একটি অংশ ‘অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল’ করে রেখেছে বলেও নয়াদিল্লি দাবি করে আসছে।
{{/usCountry}}এদিকে কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে প্রশ্ন ওঠার সময় পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, প্রশাসনিক উদাসীনতা, রাজনৈতিক বৈষম্য এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপে অন্তত ১০০ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৭ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও Joint Awami Action Committee (JAAC)-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা এবং সংগঠনের নেতাদের গ্রেফতার নিয়েও রাষ্ট্রসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জনসমাবেশ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর স্থানীয় মানুষের অভিযোগের সমাধানে অর্থবহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। ফলে কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে ১৯৪৯ সালের প্রস্তাবের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তান-প্রশাসিত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সামনে এসেছে।