Jammu And Kashmir Book Controversy: জম্মু-কাশ্মীরের সরকারি স্কুলের লাইব্রেরিতে থাকা দুটি বইকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, ওই বইগুলিতে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের ‘মহান ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে আখ্যা করা হয়েছে। ঘটনার জেরে এফআইআর দায়ের করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা। একই সঙ্গে প্রকাশনা সংস্থার দফতরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি ও ডিজিটাল তথ্যও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিতর্কিত দুটি বই হল ‘Personalities and Legends of J&K’ এবং ‘Great Personalities of Jammu and Kashmir’। প্রথম বইটির লেখক হিলাল আহমেদ ও সন্তোষ মীনা। এটি প্রকাশ করেছে জম্মুভিত্তিক ওবেরয় বুক সার্ভিস। দ্বিতীয় বইটির লেখক সুশান্ত গিরি এবং প্রকাশক দিল্লির অনুরাগ প্রকাশন। তদন্তে জানা গিয়েছে, বই দুটির শতাধিক কপি বিভিন্ন জেলার সরকারি স্কুলের লাইব্রেরিতে পাঠানো হয়েছিল। একটি বইয়ের ১২৩টি কপি জম্মু, রামবান এবং উধমপুর জেলার স্কুলে পৌঁছয়। অন্য বইটির ১২৮টি কপি জম্মু ও বারামুলা জেলার স্কুলে সরবরাহ করা হয়।
পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারার পাশাপাশি বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-র ধারাতেও মামলা দায়ের করেছে। এফআইআর করার পর জম্মুতে প্রকাশনা সংস্থার একটি দফতরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
এই বিতর্ক সামনে আসতেই জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা কড়া পদক্ষেপ করেন। তিনি স্কুল শিক্ষা দফতরের আটজন আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পাশাপাশি এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকেও অপসারণ করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি শুক্রবারই বিতর্কিত বই দু'টি সমস্ত স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}এই বিতর্ক সামনে আসতেই জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা কড়া পদক্ষেপ করেন। তিনি স্কুল শিক্ষা দফতরের আটজন আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পাশাপাশি এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকেও অপসারণ করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি শুক্রবারই বিতর্কিত বই দু'টি সমস্ত স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}বই দু'টি নিয়ে বিজেপি এবং কংগ্রেস—দুই দলই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মার অভিযোগ, বইগুলিতে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদের প্রশংসা করা হয়েছে এবং কাশ্মীরকে ‘ভারত অধিকৃত কাশ্মীর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি শুধু আপত্তিকর নয়, এর পিছনে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি লেখক, প্রকাশক, বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং শিক্ষা মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের প্রাক্তন ডিজিপি এসপি বৈদও বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বইগুলিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মকবুল ভাটকে ‘শহিদ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মাসারত আলম, সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, শাবির শাহ এবং মিরওয়াইজ উমর ফারুকের মতো ব্যক্তিদের ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর মতে, এভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা অত্যন্ত বিপজ্জনক।অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা জানিয়েছেন, তিনি এখনও বই দু'টি দেখেননি বা পড়েননি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কীভাবে এই বইগুলি স্কুলের লাইব্রেরিতে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।