জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক একাধিক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত লস্কর-ই-তইবার (LeT) কমান্ডার লতিফ ভাটকে ধরতে বড় পদক্ষেপ করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। ভাটের সন্ধান দিতে পারলে ১৫ লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের একাধিক জেলা এবং জম্মু বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ছবি-সহ ‘ওয়ান্টেড’ পোস্টার টাঙানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, লতিফ ভাটের অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানাতে। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গি কমান্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক এই লতিফ ভাট।
শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ দিনের এনকাউন্টারের পর প্রথমবার চর্চায় উঠে আসে লতিফ ভাটের নাম। সেই অভিযানে লস্করের শীর্ষ কমান্ডার জাকির গনাই নিহত হলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাটোপ ভেঙে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন ভাট। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাশ্মীরে ‘স্লিপার সেল’ পুনর্গঠন করেন।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এই স্লিপার সেলগুলির মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের ব্যবহার করে অ-স্থানীয় শ্রমিক, সাধারণ নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। গত মাসে অনন্তনাগে এক পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার মূল অভিযুক্তও লতিফ ভাট বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ওই ঘটনার পর গোটা কাশ্মীর জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও ধরপাকড় অভিযান শুরু হয়।
এছাড়া গত সপ্তাহে কুলগামে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও লতিফ ভাটের ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিহত দুই শ্রমিকই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাস্থলেই দীপক নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় ভূপেন্দর নামে অপর এক শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।
{{/usCountry}}এছাড়া গত সপ্তাহে কুলগামে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও লতিফ ভাটের ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিহত দুই শ্রমিকই ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাস্থলেই দীপক নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় ভূপেন্দর নামে অপর এক শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।
{{/usCountry}}প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুই হামলাতেই একে-৪৭ রাইফেলের পরিবর্তে ছোট ক্যালিবারের অস্ত্র, সম্ভবত পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল ‘হাইব্রিড জঙ্গি’ বা ‘ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার’দের কার্যপদ্ধতির সঙ্গে মিলে যায়। এরা সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে থেকে হামলা চালায় এবং পরে সহজেই আত্মগোপন করে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, হামলার ধরন এবং ব্যবহৃত কৌশল থেকে মনে করা হচ্ছে, এই আক্রমণগুলির পিছনে রয়েছে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), যা লস্কর-ই-তইবার একটি শাখা সংগঠন হিসেবে পরিচিত। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, লতিফ ভাটকে গ্রেফতার করা গেলে কাশ্মীরে সাম্প্রতিক টার্গেট কিলিংয়ের নেপথ্যের জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। সেই কারণেই তাঁর সন্ধান পেতে পুরস্কার ঘোষণা করার পাশাপাশি গোটা উপত্যকায় নজরদারি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।