নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কিন্তু যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর আগেই একের পর এক বিক্ষোভকারীকে আটক করতে শুরু করল দিল্লি পুলিশ। কাউকে কনট প্লেসের কাছ থেকে, কাউকে আবার যন্তর মন্তরের আশপাশ থেকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে। তার পর তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে। শনিবার সকাল থেকে এই ছবি ধরা পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই সিজেপির সমর্থকদের আটক করে জমায়েত আটকানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতভর ৪০০-রও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে সিজেপি। দলের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে তারা। শনিবার যন্তর মন্তরে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা ছিল সিজেপির।
তবে এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্ষোভের কথা জানানো হয়নি। অনুমতি ছাড়া জমায়েত হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। সেই কারণেই বিক্ষোভকারীদের আটকানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাতে বড় জমায়েত না হয়, তার জন্য রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
বিক্ষোভের প্রধান মুখ সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের আরও দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকেও শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয়। তাঁদের বিমান অবতরণের পরেই পুলিশ বিমানের ভিতরে ঢুকে তিন জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ফলে যন্তর মন্তরে পৌঁছে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার আগেই আটক হয়ে যান দলের শীর্ষ নেতারা। এর আগেও বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার পথে বিভিন্ন জায়গায় সিজেপির সমর্থকদের আটক করার খবর সামনে এসেছিল।
শুধু পুলিশি নজরদারি নয়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়েছে এই কর্মসূচিকে ঘিরে। দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্ষোভে বিপুল জমায়েত ঠেকাতে বাতিল করা হয়েছে বহু দূরপাল্লার ট্রেনও। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন জায়গায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।
{{/usCountry}}শুধু পুলিশি নজরদারি নয়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়েছে এই কর্মসূচিকে ঘিরে। দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্ষোভে বিপুল জমায়েত ঠেকাতে বাতিল করা হয়েছে বহু দূরপাল্লার ট্রেনও। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন জায়গায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।
{{/usCountry}}এ দিকে, বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনায় প্রতিবাদের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকার অনিয়মের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চাইলেও তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্য দিকে, পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত আটকাতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা।
এক দিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রস্তুতি, অন্য দিকে তা আটকাতে পুলিশের ব্যাপক অভিযান। সব মিলিয়ে শনিবার যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দিল্লি। এখন নজর, আটক বিক্ষোভকারীদের কত ক্ষণ হেফাজতে রাখা হয় এবং সিজেপির আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়।