JD Vance calls PM Modi: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল-গ্যাস আমদানি করা দেশগুলির উপর কড়া শুল্ক চাপানোর পথ খুলে দিয়ে মার্কিন সেনেটে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবারের এই ফোনালাপ ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের দিকে। বিশেষ করে রুশ জ্বালানি কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ এবং দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা বাণিজ্য আলোচনা, এই ফোনালাপকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

মার্কিন সেনেটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাশ হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যেতে পারে। ভারত ও চিনের মতো দেশ এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে বলে মার্কিন আইনপ্রণেতারা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সেনেটে বিল পাশ হওয়া মানেই এখনই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। তাতে ট্রাম্পের সই লাগবে। অবশ্য এই বিলটি ঘিরে নয়াদিল্লির উপর ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার মোদীকে ফোন করেন ভ্যান্স। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে দুই দেশের Comprehensive Global Strategic Partnership আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, ফোনালাপে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। কারণ, রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার অবস্থান সম্পূর্ণ এক নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতকে একাধিকবার চাপ দিয়েছে আমেরিকা। নয়াদিল্লির অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট—দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই তেল আমদানি করা হয়।
{{/usCountry}}সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, ফোনালাপে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। কারণ, রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ভারত ও আমেরিকার অবস্থান সম্পূর্ণ এক নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতকে একাধিকবার চাপ দিয়েছে আমেরিকা। নয়াদিল্লির অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট—দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই তেল আমদানি করা হয়।
{{/usCountry}}বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গ এই মুহূর্তে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানি করা হয়। এই অবস্থায় রুশ জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ভারতের উপর সম্ভাব্য মার্কিন চাপ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অন্তর্বর্তী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে সেনেটে নতুন বিল পাশ এবং তার পরপরই ভ্যান্সের সঙ্গে মোদীর ফোনালাপকে কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফোনালাপের পর সমাজমাধ্যমে মোদী জানান, ভ্যান্সের সঙ্গে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই নেতা। ফোনালাপে অবশ্য শুধু কূটনীতি বা বাণিজ্য নয়, ব্যক্তিগত সৌজন্যের বিষয়ও উঠে আসে। ভ্যান্স ও তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্সের চতুর্থ সন্তান অ্যালেক নীল ভ্যান্সের জন্মের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানান মোদী। পুরো পরিবারের জন্য শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, মার্কিন সেনেটে ভারতকে সম্ভাব্য চাপের মুখে ফেলা বিল পাশ এবং তার পরেই মোদী-ভ্যান্সের কথোপকথন নতুন করে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে রুশ তেল নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ, অন্যদিকে বাণিজ্য চুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা—এই দুই দিক সামলে আগামী দিনে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।