...
...
Next Story

JD-Usha Vance: উষাকে নিয়ে মন্তব্যে ক্ষুব্ধ জেডি ভ্যান্স! মিশিগান ভোটের আগে ব্যক্তিগত আক্রমণে উত্তপ্ত লড়াই

বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভ্যান্সের স্ত্রী এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের নাম। মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে একটি MAGA Inc. সমাবেশে ভ্যান্স আল-সঈদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাঁর স্ত্রীর নাম যেন এই বিতর্কে না আনা হয়। তিনি আল-সঈদকে ‘খুব, খুব খারাপ’ বলেও আক্রমণ করেন।

Published on: Sep 1, 2026, 11:51:40 IST
Advertisement

আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক লড়াই। এবার সেই সংঘাত পৌঁছে গেল ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়েও। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের হয়ে প্রচারে গিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সঈদকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভ্যান্সের স্ত্রী এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের নাম। (AFP)
বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভ্যান্সের স্ত্রী এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের নাম। (AFP)

বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভ্যান্সের স্ত্রী এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের নাম। মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে একটি MAGA Inc. সমাবেশে ভ্যান্স আল-সঈদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাঁর স্ত্রীর নাম যেন এই বিতর্কে না আনা হয়। তিনি আল-সঈদকে ‘খুব, খুব খারাপ’ বলেও আক্রমণ করেন।

মিশিগানের সিনেট আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই আসনের ফলাফল মার্কিন সেনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী সমীক্ষাতেও মিশিগানকে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় আল-সঈদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের থেকে চার শতাংশ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। যদিও প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার এখনও কাকে ভোট দেবেন, তা ঠিক করেননি। ফলে শেষ মুহূর্তের প্রচার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কীভাবে শুরু বিতর্ক?

বিতর্কের সূত্রপাত হয় শারিয়া আইন নিয়ে। ওহায়োতে একটি নির্বাচনী সভায় ভ্যান্স আল-সঈদের পুরনো মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আল-সঈদ কর্মজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করলেও শারিয়া আইনকে সমর্থন করেছেন। এরপর ভ্যান্স তাঁর প্রয়াত দাদার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আজকের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তাঁর দাদার সময়ের দল নয়। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আল-সঈদ ‘এক্স’-এ ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্সের নাম তোলেন। তিনি ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন করেন, জেডি ভ্যান্স কি উষাকেও সময়ের পিছনে নিয়ে গিয়ে তাঁর দাদার সঙ্গে দেখা করাবেন?

ভ্যান্সের আক্রমণের জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেননি আল-সঈদ। তিনি ‘বুরাই’ বা ‘অশুভ’ শব্দটি ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এবং রিপাবলিকানদের পাল্টা আক্রমণ করেন। আল-সঈদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা কমিয়ে ধনকুবেরদের কর ছাড় দেওয়া অন্যায়। তাঁর দাবি, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন খরচও বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষকে রাজনৈতিক লাভের জন্য বিভক্ত করা এবং সামান্য ক্ষমতার জন্য নৈতিক মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়াও ‘অশুভ’ কাজ। মিশিগানকে বাইরের রাজ্য থেকে আসা নেতাদের নির্দেশের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, মিশিগানের মানুষ জানেন নির্বাচনে কী ঝুঁকি রয়েছে।

ইজরায়েল ও শারিয়া আইন নিয়েও বিতর্ক

আল-সঈদকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। মিশিগানের একটি সিনাগগে হামলার পর তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। পরে সেই মন্তব্যের জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘হিংসা একটি চক্র’। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। হামলার কিছুদিন আগে হামলাকারীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য লেবাননে ইজরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তবে আল-সঈদ সিনাগগে হামলা এবং ইহুদিবিদ্বেষেরও নিন্দা করেছিলেন।

সব মিলিয়ে মিশিগানের সিনেট লড়াই এখন শুধু নীতি ও রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই নয়। ব্যক্তিগত আক্রমণ, ধর্মীয় বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুও নির্বাচনী প্রচারের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের ভোটাররা কাকে বেছে নেন, সেদিকেই এখন নজর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe