আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক লড়াই। এবার সেই সংঘাত পৌঁছে গেল ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়েও। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের হয়ে প্রচারে গিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সঈদকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভ্যান্সের স্ত্রী এবং সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের নাম। মিশিগানের স্টার্লিং হাইটসে একটি MAGA Inc. সমাবেশে ভ্যান্স আল-সঈদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাঁর স্ত্রীর নাম যেন এই বিতর্কে না আনা হয়। তিনি আল-সঈদকে ‘খুব, খুব খারাপ’ বলেও আক্রমণ করেন।
মিশিগানের সিনেট আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই আসনের ফলাফল মার্কিন সেনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী সমীক্ষাতেও মিশিগানকে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় আল-সঈদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের থেকে চার শতাংশ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। যদিও প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার এখনও কাকে ভোট দেবেন, তা ঠিক করেননি। ফলে শেষ মুহূর্তের প্রচার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কীভাবে শুরু বিতর্ক?
বিতর্কের সূত্রপাত হয় শারিয়া আইন নিয়ে। ওহায়োতে একটি নির্বাচনী সভায় ভ্যান্স আল-সঈদের পুরনো মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আল-সঈদ কর্মজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করলেও শারিয়া আইনকে সমর্থন করেছেন। এরপর ভ্যান্স তাঁর প্রয়াত দাদার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আজকের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তাঁর দাদার সময়ের দল নয়। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আল-সঈদ ‘এক্স’-এ ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্সের নাম তোলেন। তিনি ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন করেন, জেডি ভ্যান্স কি উষাকেও সময়ের পিছনে নিয়ে গিয়ে তাঁর দাদার সঙ্গে দেখা করাবেন?
এই মন্তব্যেই ক্ষুব্ধ হন ভ্যান্স। মিশিগানের সভায় তিনি আল-সঈদকে সতর্ক করে বলেন, তাঁর স্ত্রীকে এই বিতর্কের মধ্যে না টানাই ভালো। তাঁর বক্তব্য ছিল, আল-সঈদ যা খুশি নিয়ে কথা বলতে পারেন, কিন্তু উষা ভ্যান্সের নাম যেন আর না তোলা হয়। উষা ভ্যান্স ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর শৈশব হিন্দু পরিবারে কেটেছে। ফলে তাঁকে নিয়ে মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
আল-সঈদের পাল্টা আক্রমণ
{{/usCountry}}এই মন্তব্যেই ক্ষুব্ধ হন ভ্যান্স। মিশিগানের সভায় তিনি আল-সঈদকে সতর্ক করে বলেন, তাঁর স্ত্রীকে এই বিতর্কের মধ্যে না টানাই ভালো। তাঁর বক্তব্য ছিল, আল-সঈদ যা খুশি নিয়ে কথা বলতে পারেন, কিন্তু উষা ভ্যান্সের নাম যেন আর না তোলা হয়। উষা ভ্যান্স ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর শৈশব হিন্দু পরিবারে কেটেছে। ফলে তাঁকে নিয়ে মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
আল-সঈদের পাল্টা আক্রমণ
{{/usCountry}}ভ্যান্সের আক্রমণের জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেননি আল-সঈদ। তিনি ‘বুরাই’ বা ‘অশুভ’ শব্দটি ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এবং রিপাবলিকানদের পাল্টা আক্রমণ করেন। আল-সঈদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা কমিয়ে ধনকুবেরদের কর ছাড় দেওয়া অন্যায়। তাঁর দাবি, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন খরচও বাড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষকে রাজনৈতিক লাভের জন্য বিভক্ত করা এবং সামান্য ক্ষমতার জন্য নৈতিক মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়াও ‘অশুভ’ কাজ। মিশিগানকে বাইরের রাজ্য থেকে আসা নেতাদের নির্দেশের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, মিশিগানের মানুষ জানেন নির্বাচনে কী ঝুঁকি রয়েছে।
ইজরায়েল ও শারিয়া আইন নিয়েও বিতর্ক
আল-সঈদকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। মিশিগানের একটি সিনাগগে হামলার পর তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। পরে সেই মন্তব্যের জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘হিংসা একটি চক্র’। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। হামলার কিছুদিন আগে হামলাকারীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য লেবাননে ইজরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তবে আল-সঈদ সিনাগগে হামলা এবং ইহুদিবিদ্বেষেরও নিন্দা করেছিলেন।
সব মিলিয়ে মিশিগানের সিনেট লড়াই এখন শুধু নীতি ও রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই নয়। ব্যক্তিগত আক্রমণ, ধর্মীয় বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুও নির্বাচনী প্রচারের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠছে। আর এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের ভোটাররা কাকে বেছে নেন, সেদিকেই এখন নজর।