জুলাই মাসের শুরুতেই বিমান পরিবহণ শিল্পে বড় স্বস্তি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করায় ১ জুলাই থেকে বিমান জ্বালানি বা অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর দাম লিটারপিছু প্রায় ৫ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে দিল্লিতে এটিএফ-এর নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ১১০ টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি শিথিল হওয়ার পর এই প্রথম বিমান জ্বালানির দামে বড়সড় কাটছাঁট করা হল।

গত কয়েক মাসে ইরান-আমেরিকা ও ইজরায়েলকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান জ্বালানির দামেও।
১ এপ্রিল থেকে এটিএফ-এর দাম এক লাফে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রতি কিলোলিটার এটিএফ-এর দাম বেড়ে হয় ২,০৭,৩৪১.২২ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় ১১৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধি বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ে বড় ধাক্কা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্র সরকার হস্তক্ষেপ করে। সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে পুরো মূল্যবৃদ্ধি একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ উড়ানের জন্য এটিএফ-এর দাম সংশোধন করে প্রতি কিলোলিটার ১,০৪,৯২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা মার্চ মাসের তুলনায় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বেশি ছিল।
অন্যদিকে চার্টার বিমান, ব্যক্তিগত জেট এবং অনির্ধারিত বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে সম্পূর্ণ বর্ধিত দামই কার্যকর রাখা হয়েছিল। কারণ, সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের সুবিধা মূলত নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল।
{{/usCountry}}অন্যদিকে চার্টার বিমান, ব্যক্তিগত জেট এবং অনির্ধারিত বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে সম্পূর্ণ বর্ধিত দামই কার্যকর রাখা হয়েছিল। কারণ, সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের সুবিধা মূলত নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল।
{{/usCountry}}পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে ২০০১ সাল থেকেই এটিএফ-এর দাম নিয়ন্ত্রণমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ভিত্তিতেই প্রতি মাসে তা সংশোধন করা হয়। তবে হরমুজ প্রণালির সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে এপ্রিলে সম্ভাব্য ১০০ শতাংশেরও বেশি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে দেশীয় বিমান পরিষেবাকে রক্ষা করতেই সরকার সীমিত হারে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এবার পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত অনেকটাই প্রশমিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার জেরে এটিএফ-এর দামও কমানো হয়েছে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির জ্বালানি খরচ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিমান ভাড়ার উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।