JNU Professor Sexual Harassment Case: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU)-এর এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ১১ জন পড়ুয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি বা Internal Complaints Committee (ICC)-তে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর। গত মে মাসে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ICC। ইতিমধ্যেই একাধিক পড়ুয়াকে ডেকে তাঁদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, চলতি বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষা বা viva-কে কেন্দ্র করেই অভিযোগের সূত্রপাত। অভিযোগ, ওই সময় সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক পড়ুয়াদের উদ্দেশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এমনকী, যৌন প্রস্তাবে সাড়া দিলে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এক পড়ুয়া নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনানুষ্ঠানিক WhatsApp গ্রুপে জানান। ওই গ্রুপটিতে শুধুমাত্র পড়ুয়ারাই ছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর আরও কয়েকজন পড়ুয়া একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। ধীরে ধীরে অভিযোগকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১-তে।
একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার পর ওই মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ICC-তে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। এরপর কমিটি কয়েকজন পড়ুয়াকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেয়। যদিও তদন্তের প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫ দিনের সেমেস্টার বিরতি শুরু হয়ে যায়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি ক্লাস শুরু হওয়ার পর পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এলে অভিযোগের বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে বলে সূত্রের খবর।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত জেএনইউ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।
{{/usCountry}}তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত জেএনইউ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।
{{/usCountry}}এদিকে, জেএনইউতে যৌন হেনস্থার অভিযোগের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে একাধিক অভিযোগ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপও সামনে এসেছে। গত বছর এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের Executive Council চার জন কর্মীর চাকরি খারিজ করেছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এক অধ্যাপক, যাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। ওই অধ্যাপক ছিলেন জেএনইউর School of International Studies-এর সিনিয়র অধ্যাপক সোয়ারণ সিং।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাপান দূতাবাসের এক আধিকারিককে যৌন হেনস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ওই আধিকারিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে একাডেমিক অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়ে সমন্বয় করতেন। অভিযোগ, শেষবার সোয়ারণ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল বলেই চাকরি খারিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সে সময় দাবি করা হয়েছিল।
এক প্রবীণ শিক্ষকও জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি ২০২৪ সালের মে মাসে ঘটেছিল এবং বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত চালানো হয়। তদন্ত চলাকালীন অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষকেই নিজেদের বক্তব্য এবং সাক্ষী পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
নতুন করে ১১ পড়ুয়ার অভিযোগ সামনে আসায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে জেএনইউর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং শিক্ষক-পড়ুয়া সম্পর্কের পরিবেশ। এখন নজর ICC-এর তদন্তের দিকে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে কমিটি কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।