রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে ভারত। সেই কারণেই আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা বা শুল্কের বোঝা ভারতের ঘাড়ে চাপতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। এই পরিস্থিতিতে এ বার সরাসরি সতর্ক করলেন বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যাঙ্ক জেপিমর্গ্যান চেজের কর্তা জেমি ডিমন। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়াকে চাপে ফেলতে গিয়ে যেন আমেরিকা ভারত এবং গোটা বিশ্বকে ‘শাস্তি’ না দিয়ে বসে। বরং নয়াদিল্লির সঙ্গে আগে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ওয়াশিংটনের।
দিল্লিতে জেপিমর্গ্যানের ভারতীয় বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন ডিমন। সেখানেই আমেরিকার নয়া রাশিয়া-নীতি এবং ভারতীয় তেল আমদানির প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। ডিমনের মতে, রাশিয়া থেকে ভারত যে অপরিশোধিত তেল কিনছে, তার একটা অংশ নির্দিষ্ট ধরনের শোধনাগারের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়। ফলে হঠাৎ সেই সরবরাহ বন্ধ করে দিলে একই ধরনের তেল অন্য দেশ থেকে পাওয়া সব সময় সহজ হবে না।
ডিমনের কথায়, রাশিয়ার তেল ভারত না কিনলে সেই তেল অন্য কোথাও থেকে আনতেই হবে। কিন্তু সেই বিকল্প তেল ভারতের সব শোধনাগারের প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে মিলবে কি না, সেটিও ভাবতে হবে। ফলে শুধু রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর লক্ষ্যেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও পড়তে পারে।
এই কারণেই আমেরিকার প্রতি ডিমনের পরামর্শ, নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক চাপানোর আগে ভারতের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হোক। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভারত এবং বিশ্বের তেলবাজার যাতে সমস্যায় না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন তিনি। এমনকি রাশিয়ার তেলের উপর এ ধরনের শুল্ক আরোপের প্রয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জেপিমর্গ্যান কর্তা।
এর মধ্যে গত সপ্তাহেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-সংক্রান্ত একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে সই করেছেন। ওই আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারত এবং চিন—দু’টিই রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় তাদের উপর এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}এর মধ্যে গত সপ্তাহেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-সংক্রান্ত একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে সই করেছেন। ওই আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারত এবং চিন—দু’টিই রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় তাদের উপর এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পর্শকাতর। এক দিকে সস্তা ও বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে দেশের শক্তি-নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। অন্য দিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডিমনের বক্তব্য তাই কেবল ভারতীয় তেল আমদানি নিয়ে নয়, বিশ্ব অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য চাপ নিয়েও। তাঁর মতে, রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার নীতির সঙ্গে এমন ব্যবস্থা যেন না জড়িয়ে যায়, যার ধাক্কা গিয়ে পড়ে ভারতীয় শিল্প, শোধনাগার এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে।
অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে চাইছে ঠিকই, কিন্তু সেই চাপের হিসাব করতে গিয়ে ভারতের প্রয়োজন এবং বিশ্ব তেলবাজারের বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন জেপিমর্গ্যানের শীর্ষ কর্তা। এখন দেখার, ওয়াশিংটন সেই বার্তা কতটা গুরুত্ব দেয়।