ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (JSSC CGL) নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ক্রমশ নতুন মোড় নিচ্ছে। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ইস্তফার দাবি তুললেন আন্দোলনকারীরা। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তবে সেই আলোচনা হতে হবে প্রকাশ্যে, সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে। বন্ধ দরজার বৈঠকে তাঁরা রাজি নন বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে গত কয়েক দিন ধরে লাগাতার অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছ তদন্ত, দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও, এখন তা রাজনৈতিক মাত্রা পেতে শুরু করেছে। ছাত্রদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও সরকার কার্যত নির্বিকার। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি সামনে এসেছে।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখ রাহুল ক্রান্তি বলেন, সরকার এখনও নিজেদের তদন্তকারী সংস্থার উপরই ভরসা রাখছে। কিন্তু যদি সত্যিই কোনও অনিয়ম না থাকে, তাহলে সিবিআই তদন্তে আপত্তি কোথায়? তাঁর দাবি, সরকার আলোচনার কথা বললেও এখনও পর্যন্ত ছাত্রদের মূল দাবিগুলির বিষয়ে কোনও ইতিবাচক বার্তা দেয়নি।
অন্যদিকে, রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গোয়ারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলা বিতর্কের বিষয়ে রাজ্যপালকে অবহিত করেন তিনি। রাজভবনের তরফে জানানো হয়েছে, নিয়োগকারী সংস্থাগুলির কাজ এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে তাদের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে আশ্বাস দিয়েছেন, ছাত্রদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের। তবে ছাত্ররা জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় তাঁরা প্রতিনিধি পাঠাবেন ঠিকই, কিন্তু বৈঠক প্রকাশ্যে না হলে সেই আলোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না। সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরার সামনেই সমস্ত আলোচনা করতে হবে বলে তাঁদের দাবি।
{{/usCountry}}সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের। তবে ছাত্ররা জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় তাঁরা প্রতিনিধি পাঠাবেন ঠিকই, কিন্তু বৈঠক প্রকাশ্যে না হলে সেই আলোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না। সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরার সামনেই সমস্ত আলোচনা করতে হবে বলে তাঁদের দাবি।
{{/usCountry}}এদিকে বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা রাঁচিতে তিরঙ্গা মিছিলও করেন। সেই মিছিল থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি জোরালোভাবে তোলা হয়। ১০ অগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়েছে অনশনরত ছাত্রদের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে। একাধিক আন্দোলনকারী জানিয়েছেন, দীর্ঘ অনশনের জেরে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা-সহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সরকার শুধু আশ্বাস দিলে হবে না, দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ করতে হবে।
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোও অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন। সম্প্রতি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর সঙ্গে দেখা করে অনশনকারীদের অন্তত জল ও লবণ গ্রহণের পরামর্শ দেন। ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য সরকারের বিবেককে জাগিয়ে তোলা, আত্মত্যাগ নয়।
সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার পথ খুললেও অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এখন নজর, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের হয়, নাকি আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করে।