...
...
Next Story

Earth rotation solstice: আজই সেই বিরল দিন! ৯৯ শতাংশ মানুষ একসঙ্গে পেলেন সূর্যের আলো, পিছনের বিজ্ঞানটা জানুন

Daylight and twilight same time earth tilt: মহাজাগতিক নিয়মে পৃথিবীর অর্ধেক অংশে দিন এবং বাকি অর্ধেক অংশে রাত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৮ জুলাই এমন একটি ব্যতিক্রমী দিন, যা বিজ্ঞানীদেরও চমকে দেয়।

Published on: Jul 8, 2026, 18:58:44 IST
Advertisement

Daylight and twilight same time earth tilt: আজকের দিনটি অর্থাৎ ৮ জুলাই মহাজাগতিক ও ভৌগোলিক ইতিহাসের এক বিরল এবং অনন্য দিন। আপনি কি জানেন, আজ ঠিক এক বিশেষ মুহূর্তে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একসঙ্গে সূর্যের আলো বা দিনের আলোর স্পর্শ পাচ্ছেন? শুনতে কল্পবিজ্ঞানের মতো মনে হলেও এটি এক পরম বৈজ্ঞানিক সত্য।

আজই সেই বিরল দিন! ৯৯ শতাংশ মানুষ একসঙ্গে পেলেন সূর্যের আলো
আজই সেই বিরল দিন! ৯৯ শতাংশ মানুষ একসঙ্গে পেলেন সূর্যের আলো

প্রতি বছর জুলাই মাসের এই নির্দিষ্ট দিনটিতে পৃথিবীর আবর্তন ও কক্ষপথের বিশেষ অবস্থানের কারণে এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে। যখন গ্রিনিচ মান সময় বা ইউটিসি (UTC) বেলা ১১:১৫ মিনিটে পৃথিবীর এক বিশাল অংশে সরাসরি সূর্যের আলো, গোধূলি বা ঊষার আলো একই সময়ে এসে পৌঁছায়।

মহাজাগতিক নিয়মে পৃথিবীর অর্ধেক অংশে দিন এবং বাকি অর্ধেক অংশে রাত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৮ জুলাই এমন একটি ব্যতিক্রমী দিন, যা বিজ্ঞানীদেরও চমকে দেয়। আজকের দিনে এক বিশেষ মুহূর্তে বিশ্বের প্রায় ৭.৯ বিলিয়ন মানুষের মাথার ওপর কোনো না কোনোভাবে সূর্যের আলো উপস্থিত থাকে।

কীভাবে ঘটে এই অলৌকিক ঘটনা?

ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুসারে, এই ঘটনার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে আমাদের পৃথিবীর অক্ষের হেলে থাকা (Earth's Tilt) এবং উত্তর গোলার্ধে এই সময়ে স্থলভাগের বিন্যাসের ওপর।

প্রতি বছর জুন ও জুলাই মাসে সূর্য উত্তর গোলার্ধের ঠিক ওপরে অবস্থান করে। উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীর এমন সব বড় বড় মহাদেশ বা স্থলভাগ রয়েছে, যেখানে বিশ্বের সিংহভাগ জনসংখ্যা বসবাস করে—যেমন এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ বা মহাসাগরের পরিমাণ অনেক বেশি, যেখানে জনসংখ্যা অত্যন্ত কম।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ৯৯ শতাংশ মানুষের সবাই যে তীব্র ও প্রখর সূর্যালোক (Direct Sunlight) পাচ্ছেন তা কিন্তু নয়। এই জনসংখ্যার মধ্যে মূলত তিনটি স্তরে আলো পৌঁছায়:

  • সরাসরি দিনের আলো (Direct Daylight): বিশ্বের প্রায় ৮৩ শতাংশ মানুষ এই বিশেষ মুহূর্তে সরাসরি ঝলমলে রোদের মধ্যে অবস্থান করেন।
  • নাগরিক গোধূলি (Civil Twilight): প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ এই সময়ে সূর্যাস্তের ঠিক পরের বা সূর্যোদয়ের ঠিক আগের আলো অর্থাৎ গোধূলি বা ঊষার আলো উপভোগ করেন, যেখানে কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন হয় না।
  • নটিক্যাল ও অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল গোধূলি (Nautical & Astronomical Twilight): বাকি ৪ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ আকাশের এমন এক মায়াবী আলোয় থাকেন, যেখানে সূর্য দিগন্তের নিচে থাকলেও আকাশে একধরণের হালকা আলোর আভা দেখা যায়।

এই তিন ধরণের আলোর সম্মিলিত রূপই আজ পৃথিবীর ৯৯ শতাংশ মানুষকে একই সময়ে অন্ধকার থেকে মুক্ত রেখেছে।

সোশাল মিডিয়ার বিতর্ক বনাম বিজ্ঞানের সত্য

ইন্টারনেট বা সোশাল মিডিয়ায় প্রতি বছরই এই দিনটি নিয়ে অনেক বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই দাবি করেন এটি একটি ইন্টারনেট ‘মিথ’ বা গুজব। তবে ইন্ডিয়া টুডে-র বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ডেটা বা তথ্য দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, গোধূলির সবকটি স্তরকে (Civil, Nautical, Astronomical) যদি হিসাবের মধ্যে ধরা হয়, তবে গাণিতিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে ৮ জুলাইয়ের এই বিশেষ মুহূর্তে সত্যিই পৃথিবীর ৯৯% মানুষের আকাশে সূর্যের আলো বা তার আভা উপস্থিত থাকে। এটি পৃথিবীর বুকে আলো আর ছায়ার এক নিখুঁত মহাজাগতিক দাবার চাল।

বর্তমান ২০২৬ সালের এই আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়ে ৮ জুলাইয়ের এই বিশেষ মুহূর্তটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মহাবিশ্বের নিয়মগুলো কতটা নিখুঁত ও বিস্ময়কর। আমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, আজ আমরা সবাই এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা, কারণ আজ আমরা প্রায় সবাই একসাথে একই সূর্যের আলো ভাগ করে নিচ্ছি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe