ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আরও মসৃণ করতেই কি বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণাগার থেকে মোদীবিরোধী আন্দোলনের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে? বাংলাদেশে এই প্রশ্ন ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এনসিপি-র আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, ভারতকে খুশি করতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সেই ভবনকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণাগার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। শনিবার সেই জাদুঘর পরিদর্শনে যান নাহিদ ইসলাম-সহ এনসিপির একাধিক নেতা। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, জাদুঘর থেকে মোদী-বিরোধী আন্দোলনের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাহিদের বক্তব্যকে ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতেই কি এই পদক্ষেপ? এনসিপি নেতার দাবি, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল। সেই সময়ের ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ এবং মোদী-বিরোধী আন্দোলনও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ সেই বিষয়গুলিই এখন জাদুঘর থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।
নাহিদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো বা খারাপ—এভাবে বিষয়টিকে দেখা উচিত নয়। দুই দেশের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আপসকামী মনোভাবের কারণেই জুলাই আন্দোলনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার উদ্দেশ্যেই যদি আন্দোলনের স্মৃতি থেকে কোনও অংশ বাদ দেওয়া হয়, তা হলে সেটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের স্বার্থের পরিপন্থী বলেই মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সেই আবহে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
{{/usCountry}}বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সেই আবহে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
{{/usCountry}}তবে নাহিদের অভিযোগের সরাসরি পাল্টা জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভি। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৫ মাসের উন্নয়ন যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে অনেকে সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সরকারের কোনও গাফিলতি থাকলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রিজভির বক্তব্যে অবশ্য জাদুঘর থেকে মোদীবিরোধী আন্দোলনের ছবি সরানোর অভিযোগের নির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে নাহিদের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, তেমনই এর পিছনে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও এখনও রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়েই রয়েছে।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মৃতিও আরও বিস্তৃতভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ। শহিদ আবু সাঈদ-সহ আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের দেওয়া আরও বহু স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে বলে দাবি তাঁর। সেগুলিকে আরও শৈল্পিক ও বিস্তারিতভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ফলে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণাগার এখন শুধু ইতিহাসের নিদর্শন প্রদর্শনের জায়গা নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও নতুন বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মোদীবিরোধী আন্দোলনের ছবি সত্যিই সরানো হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার পিছনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কোনও কূটনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছে কি না, এখন সেই প্রশ্নের উত্তরেই নজর রাজনৈতিক মহলের।