Kalyan Banerjee's Explosive Message: একুশে জুলাই শহিদ দিবসের সভা শেষ হতেই কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মঞ্চের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকবিতণ্ডার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ছাব্বিশষের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যখন একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তখন বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দিদির পাশে আছেন জানিয়েও গতকাল একুশে জুলাইয়ের মঞ্চের ঘটনা নিয়ে সরব হলেন।
ঠিক কী ঘটেছিল?

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলে কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাখাকে কেন্দ্র করে। কল্যাণ অতিরিক্ত সময় বক্তব্য রাখছেন বলে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শ্রীরামপুরের সাংসদও মঞ্চে কিছু বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। তারপর তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যান। সেই সময় কল্যাণ দাবি করেন, কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর সঙ্গে মমতার বাদানুবাদের খবর সামনে আসার পরই এদিন সকালে নয়া দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল সাংসদ।
কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
মঙ্গলবার একুশে জুলাইয়ের মঞ্চত্যাগের কারণ হিসাবে অসুস্থতার কথা বললেও পরে ‘অভিমানের’ কথা প্রকাশ্যে আনেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'মমতাদির জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু দিদিকেও বুঝতে হবে বাস্তবটা কী।' তার পরেই কল্যাণের সংযোজন, 'দিদিকে ভালবাসি, দিদিকে শ্রদ্ধা করি, দিদির জন্য সবকিছু করতে রাজি। কিন্তু দিদি যদি মনে করে, যা ইচ্ছা বলবে, তাতেই সব হবে, তা হবে না। দিদি যদি মনে অভিষেক আর ডেরেক যা বলবে, তা-ই হবে, তা-ও হবে না।' গতকাল বক্তার তালিকার কথা উল্লেখ করে কল্যাণের দাবি, ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি বক্তৃতা শুরু করেন। তার পর বক্তৃতার সময় নিয়ে মমতার সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর মঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি। তার পর নেত্রীকে তিনি একটি মেসেজ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন কল্যাণ। সেই মেসেজের বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না-আনলেও, তৃণমূল সাংসদের দাবি তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১টা ১৫।
সাংবাদিক বৈঠকে গতকালের ঘটনা নিয়ে রীতিমতো তৃণমূল নেত্রীর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'কেউ তো দিদির কানের মধ্যে গুঁজেছে এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিয়েছি। দিদি এমন এমন করে ঘড়ি দেখাচ্ছে। এক ঘণ্টা বলছে! এ সব আমি মেনে নেব? দিদির অত ঘন ঘন বিরক্ত হলে হবে না।' অবশ্য দল ছাড়ার জল্পনায় জল ঢেলে কল্যাণ জানান, 'তৃণমূলে থেকেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তাঁর কথায়, “বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আমি দলে থেকেই করব। প্রয়োজনে ঝগড়া করব। কাল থেকে আমি অনেক মেসেজ পাচ্ছি, দল ছেড়ে যাবেন না। দল ছাড়ব কেন?' এই সূত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাস্তব’ বোঝার আর্জি জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'দিদি যদি বাস্তব না বোঝে, তা হলে দিদি যে দল তৈরি করেছে, তা নিজের হাতে শেষ করবে।'
{{/usCountry}}সাংবাদিক বৈঠকে গতকালের ঘটনা নিয়ে রীতিমতো তৃণমূল নেত্রীর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'কেউ তো দিদির কানের মধ্যে গুঁজেছে এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিয়েছি। দিদি এমন এমন করে ঘড়ি দেখাচ্ছে। এক ঘণ্টা বলছে! এ সব আমি মেনে নেব? দিদির অত ঘন ঘন বিরক্ত হলে হবে না।' অবশ্য দল ছাড়ার জল্পনায় জল ঢেলে কল্যাণ জানান, 'তৃণমূলে থেকেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তাঁর কথায়, “বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা আমি দলে থেকেই করব। প্রয়োজনে ঝগড়া করব। কাল থেকে আমি অনেক মেসেজ পাচ্ছি, দল ছেড়ে যাবেন না। দল ছাড়ব কেন?' এই সূত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাস্তব’ বোঝার আর্জি জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'দিদি যদি বাস্তব না বোঝে, তা হলে দিদি যে দল তৈরি করেছে, তা নিজের হাতে শেষ করবে।'
{{/usCountry}}অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'অভিষেক কী করছে? শুধু নিজের বাড়ি আর কালীঘাট করলে তো হবে না। বেরোতে হবে তো ভাই। ডিম খাই, লাঠি খাই, গালাগালি খাই। এটা তো রাজনীতির অঙ্গ।' এই প্রসঙ্গে মমতাকেও নিশানা করে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, আমার জীবন, যৌবন, প্রফেশন, সংসার সব দিদির জন্য স্যাক্রিফাইজ করেছি। উনি যদি অভিষেক অভিষেক করেন, তাহলে তো আমাদের সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।' একই সঙ্গে নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, 'সে দিন এক ভদ্রমহিলা বললেন, ‘দিদিকে বেরোতে বলুন, ঘুরতে বলুন। না হলে সাহস পাচ্ছি না।' আজও বাংলার মানুষ মমতাদিকেই চাইছে। মমতাদির জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত আছি।'
কী বলছে কালীঘাট তৃণমূল?
এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই তৃণমূল করি। এর বেশি কিছু বলব না।'
সব মিলিয়ে, এই ঘটনার পর থেকে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য অবস্থান ভবিষ্যতে শুধুই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে, নাকি দলের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে, তা সময়ই বলবে।