Kashmiris protest against Pakistan: পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) চলতে থাকা অশান্তি এবং বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতিবাদে এবার সরব হলেন ব্রিটেনে বসবাসকারী কাশ্মীরি প্রবাসীরা। ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড শহরে তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পিওজেকে-তে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে পাকিস্তান প্রশাসন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক অশান্তির সময় একাধিক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলন চলা এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনী অবরোধ জারি করায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
প্রতিবাদকারীদের আরও দাবি, এক হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করে জোর করে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই আটক ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গেই পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে সমস্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।
হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এবং বিভিন্ন স্লোগান তুলে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, পিওজেকে-র বিভিন্ন প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গোটা অঞ্চল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাঁদের মতে, এই অবরোধের কারণে মানবিক সাহায্য পৌঁছনোও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাশ্মীরি প্রবাসী সংগঠনের সদস্যরা ব্রিটিশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। তাঁদের দাবি, পিওজেকে-তে মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সব প্রবেশপথ খুলে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
{{/usCountry}}সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাশ্মীরি প্রবাসী সংগঠনের সদস্যরা ব্রিটিশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। তাঁদের দাবি, পিওজেকে-তে মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সব প্রবেশপথ খুলে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
{{/usCountry}}এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও পিওজেকে-তে পাকিস্তানের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। সংস্থার অভিযোগ, আঞ্চলিক নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে পাকিস্তান প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-কে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যকলাপ এবং সংগঠন গঠনের মৌলিক অধিকারের উপর আঘাত।
অ্যামনেস্টি আরও দাবি করেছে, রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার পরিবর্তে প্রশাসন বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার পথ বেছে নিয়েছে। ফলে পিওজেকে-র পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তবে আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিওজেকে-র পরিস্থিতি যে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহলও।