Jharkhand woman : শাড়ির আঁচল কোমরে গোঁজা, পায়ে জুতা নেই। মাত্র ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় শেষ করে শিরোনামে এসেছিলেন ঝাড়খণ্ডের স্বামী হারা দুই সন্তানের মা ২৭ বছর বয়সি কবিতা কুমারী। তিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং। হোম গার্ডের চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তবে সেই প্রস্তুতিতে ছিল না জুতো, প্রয়োজনীয় জিনিস। তাঁর মনোবল ও পরিশ্রম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দ্বিতীয় পরীক্ষায় আর পাশ করতে পারলেন না কবিতা কুমারী। তিনবার হাইজাম্পের সুযোগ পেলেও নির্দিষ্ট উচ্চতা ছুঁতে না পারায় খারিজ হয়ে গেল হোমগার্ডে চাকরির সুযোগ। কবিতা কুমারীর ব্যর্থতার কাহিনিতে অনেকেই ব্যথিত। চাকরি যে তাঁর বড় দরকার ছিল!
হাইজাম্পে তিন সুযোগ, তবুও অধরা সাফল্য

সরকারি হোমগার্ডের চাকরির পরীক্ষায় কবিতার রোল নম্বর ছিল ২৩৮। রামগড়ের গৃহবধূ কবিতা মাস কয়েক আগেই ভাইরাল হয়েছেন তাঁর নিজস্ব দক্ষতায়। হোমগার্ডের চাকরির পরীক্ষায় ১৬০০ মিটার দৌড়ের জন্য ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগীদের। কবিতা তাতে অংশ নেন। কিন্তু তাঁর কাছে না ছিল দৌড়ের উপযুক্ত পোশাক, না ছিল প্রশিক্ষণ। শুধুমাত্র ছোট সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে সাহস করেই কবিতা চলে যান দৌড়ের মাঠে। পরনে তাঁর তুঁতে রঙের মলিন শাড়ি, খালি পা। সেই অবস্থায় ১৬০০ মিটারের রেস শেষ করেন মাত্র ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে! অর্থাৎ ১০ মিনিটের আগে। এই কৃতিত্বের কারণেই কবিতা রাতারাতি হয়ে ওঠেন সোশাল মিডিয়ার ‘তারকা।’
এই পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ ছিল হাইজাম্প। তিনবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কবিতাকে। কিন্তু কোনওবারই নির্ধারিত উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি তিনি। ফলে হোমগার্ড নিয়োগের ওই পরীক্ষায় ফেল করেন তিনি। ফলে চাকরি হাতছাড়া হয়। অথচ কবিতার সংগ্রামী জীবনে একটা চাকরির বড় প্রয়োজন ছিল। আচমকা স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান, বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির সমস্ত দায়িত্ব পড়ে গৃহবধূ কবিতার উপর। তাই কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই চাকরির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম! শেষমেশ আর চাকরি হল না তাঁর। স্বনির্ভর হয়ে সংসার প্রতিপালনের স্বপ্ন আপাতত অধরা রয়ে গেল। উল্লেখ্য, এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ৯৩০ জন মহিলা প্রার্থী মাঠে নেমেছিলেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর একার কাঁধেই সংসার
কবিতার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সসো গ্রামে। তিন বছর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান তার স্বামী দীপক মাহাতো। দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েন সেই সময়। সংসারের দায়িত্ব একার কাঁধে। সেই দায়িত্ব সামলাতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি, পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। পুলিশ ও হোম গার্ডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠতেন কবিতা। সন্তানদের ঘুম ভাঙার আগেই গ্রামের মেঠোপথে দৌড় অনুশীলন করতেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় দৌড়ানোর জন্য বিশেষ পোশাক কিংবা জুতা কিনতে পারেননি। তবে চালিয়ে গেছেন অনুশীলন। সম্প্রতি এক স্থানীয় ট্রেনিং অ্যাকাডেমি অফিসিয়াল সিলেকশন ড্রাইভের আগে ট্রায়াল রানের আয়োজন করে। সেখানে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন কবিতা। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়েই এই নিয়োগ পরীক্ষায় নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তাঁর লড়াইয়ের কাহিনি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন, যাতে তিনি অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন এবং সংসার সামলাতে পারেন।
{{/usCountry}}কবিতার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সসো গ্রামে। তিন বছর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান তার স্বামী দীপক মাহাতো। দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েন সেই সময়। সংসারের দায়িত্ব একার কাঁধে। সেই দায়িত্ব সামলাতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি, পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। পুলিশ ও হোম গার্ডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠতেন কবিতা। সন্তানদের ঘুম ভাঙার আগেই গ্রামের মেঠোপথে দৌড় অনুশীলন করতেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় দৌড়ানোর জন্য বিশেষ পোশাক কিংবা জুতা কিনতে পারেননি। তবে চালিয়ে গেছেন অনুশীলন। সম্প্রতি এক স্থানীয় ট্রেনিং অ্যাকাডেমি অফিসিয়াল সিলেকশন ড্রাইভের আগে ট্রায়াল রানের আয়োজন করে। সেখানে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন কবিতা। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়েই এই নিয়োগ পরীক্ষায় নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। তাঁর লড়াইয়ের কাহিনি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন, যাতে তিনি অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন এবং সংসার সামলাতে পারেন।
{{/usCountry}}শাড়ি পরে, পায়ে জুতা ছাড়াই গরম পিচের ওপর দৌড়ন কবিতা। প্রতিকূলতা পেরিয়ে ১ হাজার ৬০০ মিটারের ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে স্বপ্নপূরণের অনেকটাই কাছে চলে গিয়েছিলেন কবিতা। কিন্তু হাইজাম্পের ব্যর্থতা তাঁর চাকরি পাওয়ার স্বপ্নের পথ আপাতত থামিয়ে দিল। তবে জয় না এলেও কঠিন বাস্তবকে হারিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে রইলেন কবিতা। একই সঙ্গে আর্থিক অনটনে ভোগা প্রান্তিক স্তরের বহু প্রার্থীর ন্যূনতম পরিকাঠামো না পাওয়ার করুণ চিত্রটিও নতুন করে সামনে আনল তাঁর এই অসম লড়াই।