Kerala News: ৩৫ বছর আগের কথা। সৌদি আরবে থাকাকালীন এক সহকর্মীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন কেরলের বাসিন্দা ইসমাইল। দেশে ফেরার পরে অনেক খোঁজ করেছেন তাঁর। কিন্তু দেখা পাননি। শেষমেশ তেলাঙ্গানার ধর্মপুরীতে দেখা হয় সেই বন্ধু ইডলা লাছনার সঙ্গে। পুরনো দিনের কথা ভাগাভাগির পাশাপাশি, ৩৫ বছর আগে নেওয়া ধার সুদ-সহ বন্ধুকে ফিরিয়ে দিয়ে সততা, প্রতিশ্রুতি আর বন্ধুত্বের চমৎকার এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন কেরলের ওই বাসিন্দা। তাঁর সততায় মুগ্ধ হয়েছে নেটদুনিয়াও।

জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫ বছর আগে জীবনের কঠিন সময়ে সৌদি আরবে কাজ করার সময় বন্ধুর কাছ থেকে ১,০০০ টাকা ধার নিয়েছিলেন কেরলের ওই ব্যক্তি। পরে চাকরি পরিবর্তন, দেশে ফেরা এবং সময়ের ব্যবধানে দু'জনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সেই টাকা আর ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। বহু খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে ৯ জুলাই বন্ধু ইডলা লাছনার খোঁজ পান তেলাঙ্গানার জগতিয়াল জেলায়। তার পরেই তিনি বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে কয়েক দশক ধরে জমে থাকা ঋণ শোধ করেন। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় বিস্মিত হয়ে যান ইডলা লাছনা। এত বছর পর কেউ যে নিজের দায়বদ্ধতার কথা মনে রেখে টাকা ফিরিয়ে দিতে পারেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। প্রথমে টাকা নিতে অনীহা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির আন্তরিকতার সম্মান জানিয়ে অর্থ গ্রহণ করেন।
সৌদি আরবে কী ঘটেছিল?
১৯৯১ সালে সৌদি আরবের আবকাইকে কাজ করার সময় ইসমাইল ও লাছনার বন্ধুত্ব হয়। প্রায় পাঁচ বছর একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। সেই সময়ে ইসমাইল বন্ধুর কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নিয়েছিল। সেই সময়ে ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য ছিল প্রায় এক হাজার টাকা। তখন ইসমাইল কথা দিয়েছিল, সামর্থ্য হলে তিনি টাকাটা ফেরত দেবেন। তবে কিছুদিন পরেই লাছনা ভারতে ফিরে আসেন। যেহেতু সেই সময়ে মোবাইল ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না, তাই এক সময় দুজনের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সম্প্রতি, ইসমাইল তার পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে বের করে টাকাটা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কাজটা সহজ ছিল না। তার কাছে লাছনার ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের অন্য কোনও তথ্য ছিল না। তাঁর শুধু এটুকুই মনে ছিল যে লাছনা ধর্মপুরীর বাসিন্দা। এই একটি মাত্র তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইসমাইল খোঁজা শুরু করেন। ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে খুঁজতে খুঁজতে গত ৯ জুলাই ইসমাইল ধর্মপুরীতে পৌছান। স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে তিনি অবশেষে তার লাছনার বাড়ি খুঁজে পান। তবে বন্ধুকে পাননি।
{{/usCountry}}১৯৯১ সালে সৌদি আরবের আবকাইকে কাজ করার সময় ইসমাইল ও লাছনার বন্ধুত্ব হয়। প্রায় পাঁচ বছর একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। সেই সময়ে ইসমাইল বন্ধুর কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নিয়েছিল। সেই সময়ে ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য ছিল প্রায় এক হাজার টাকা। তখন ইসমাইল কথা দিয়েছিল, সামর্থ্য হলে তিনি টাকাটা ফেরত দেবেন। তবে কিছুদিন পরেই লাছনা ভারতে ফিরে আসেন। যেহেতু সেই সময়ে মোবাইল ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না, তাই এক সময় দুজনের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সম্প্রতি, ইসমাইল তার পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে বের করে টাকাটা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কাজটা সহজ ছিল না। তার কাছে লাছনার ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের অন্য কোনও তথ্য ছিল না। তাঁর শুধু এটুকুই মনে ছিল যে লাছনা ধর্মপুরীর বাসিন্দা। এই একটি মাত্র তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইসমাইল খোঁজা শুরু করেন। ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে খুঁজতে খুঁজতে গত ৯ জুলাই ইসমাইল ধর্মপুরীতে পৌছান। স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে তিনি অবশেষে তার লাছনার বাড়ি খুঁজে পান। তবে বন্ধুকে পাননি।
{{/usCountry}}লাছনা এখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে কাজ করেন। ১২০ সৌদি রিয়াল বা এক হাজার টাকার ঋণের বিপরীতে ইসমাইল বন্ধুর পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন। ৩৫ বছর পর দুই বন্ধু হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলেন। ঋণ শোধের খবরটি লাছনাকে অবাক করে দেয়। ইসমাইলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লাছনা বলেন, ‘এই উদ্যোগটি আমাদের বন্ধুত্বের গভীরতাই প্রকাশ করে।’ তাঁর কথায়, ‘আমরা দুজনেই সৌদি আরবের আবকাইকে থাকতাম। সন্ধ্যায় আমরা তার রুমে যেতাম, রান্না করতাম এবং একসঙ্গে খেতাম। এভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে আমি তাঁকে সৌদি আরবের মুদ্রা ১২০ রিয়াল ধার দিই। এই টাকা ধার দেওয়ার পর প্রায় ৩৫ বছর কেটে গেছে। আমি জানি না তিনি কিভাবে ১২০ রিয়ালের হিসাব করে ২৫ হাজার টাকা দিলেন। তিনি অত্যন্ত সৎ এবং ভালো একজন মানুষ। সেই কারণেই তিনি আমাকে বেশি টাকা দিয়েছেন। এটি মূলত আমাদের বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।’
লাছনা আরও বলেন, ‘তিনি এই অঙ্কের সঙ্গে সুদ যোগ করেছেন কিনা তা আমি জানি না। যেহেতু অনেক বছর পার হয়ে গেছে, আমার মনে হয় তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার আগে হয়তো সুদ যোগ করেছেন, তবে আমি নিশ্চিত নই।’