...
...
Next Story

Ketan Agarwal Murder Update: রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার ‘ব্লুপ্রিন্ট’! পুনের ব্যবসায়ী খুনে চাঞ্চল্যকর দাবি পুলিশের

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের খবর ও তদন্তের বিবরণ খুঁটিয়ে পড়ে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। এমনকি আগের মামলার ভুলগুলো থেকেও শিক্ষা নিয়ে তাঁরা আরও নিখুঁতভাবে হত্যার ছক কষেছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

Published on: Jul 7, 2026, 08:53:06 IST
Advertisement

Ketan Agarwal Murder Update: রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সামনে এল একই ধরনের আর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এবার পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের খবর ও তদন্তের বিবরণ খুঁটিয়ে পড়ে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। এমনকি আগের মামলার ভুলগুলো থেকেও শিক্ষা নিয়ে তাঁরা আরও নিখুঁতভাবে হত্যার ছক কষেছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের খবর ও তদন্তের বিবরণ খুঁটিয়ে পড়ে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।
সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের খবর ও তদন্তের বিবরণ খুঁটিয়ে পড়ে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

পুনে পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, কেতন আগরওয়ালকে পাহাড়ের খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়। একইভাবে রাজা রঘুবংশীকেও পাহাড়ি খাদে ফেলে খুন করা হয়েছিল। এই দুই ঘটনার মধ্যে একাধিক মিল থাকলেও তদন্তকারীদের মতে, সিয়া গোয়াল অনেক বেশি সতর্ক ছিলেন। তিনি এমনভাবে অ্যালিবাই তৈরি করেছিলেন যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হয় এবং পুলিশের পক্ষে সত্য উদঘাটন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধারাবাহিক তদন্তের পরই এই মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়। প্রথম থেকেই কেতনের পরিবারের দাবি ছিল, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়। পুলিশেরও সন্দেহ হয়েছিল, কারণ লোহাগড় দুর্গের যে জায়গা থেকে কেতন পড়ে যান, সেটি ট্রেকিংয়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ ছিল না। সেখান থেকেই তদন্তের মোড় ঘুরতে শুরু করে।

পুলিশের দাবি, সিয়া গোয়াল বিশ্বাস করেছিলেন কেতনকে হত্যা করাই তাঁর বিয়ে থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। তদন্তকারীদের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা নয়; পারিবারিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়েই এই অপরাধের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। একজন তদন্তকারী আধিকারিকের ভাষায়, এটি ছিল ‘হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া অপরাধ’, তবে সেই সঙ্গে ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার স্পষ্ট চেষ্টা।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইল ফোনের ব্রাউজিং হিস্ট্রি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, সিয়া রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন পড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি পুলিশি হেফাজতে মহিলাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয় এবং মহিলা বন্দিদের আইনি অধিকার সম্পর্কেও ইন্টারনেটে খোঁজ করেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, এগুলো প্রমাণ করে যে অপরাধের আগে তিনি সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

গোয়াল পরিবারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া আরও একটি মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, ওই ফোন থেকেই হত্যার পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধুরীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত কোনও অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে তদন্তকারীদের আশা, দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর তাঁদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে রাজা রঘুবংশীর মা উমা রঘুবংশীও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, দুই মামলার মধ্যে ভয়ঙ্কর মিল রয়েছে এবং অভিযুক্তদের আচরণও প্রায় একই রকম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী জামিনে মুক্ত থাকায় ভবিষ্যতে এমন অপরাধে অভিযুক্তদের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে। দুই ঘটনায় তদন্ত চললেও পুলিশের দাবি, সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে না এলে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হয়তো দুর্ঘটনা বলেই থেকে যেত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe