ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির বড় সাফল্য। পঞ্জাবে রেলপথে নাশকতার পরিকল্পনা ও বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই খালিস্তানি জঙ্গিকে মালয়েশিয়া থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ এবং নাশকতার ছক কষছিল। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম গুরদয়াল সিং এবং অমরপ্রীত সিং। তদন্তকারীদের দাবি, তারা নিষিদ্ধ খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পঞ্জাবে গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডরকে লক্ষ্য করে একাধিক নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করা, বিস্ফোরক সরবরাহ এবং স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অশান্তি তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে, এই দুই ব্যক্তি বিদেশে বসেই ভারতের বিরুদ্ধে কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিল বলে অভিযোগ। ভারত সরকারের অনুরোধে মালয়েশিয়ার প্রশাসন তাদের আটক করে এবং পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিদেশভিত্তিক কিছু খালিস্তানি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পঞ্জাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রেলপথ, সরকারি স্থাপনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার তথ্য একাধিকবার সামনে এসেছে। এই দুই অভিযুক্তের গ্রেপ্তার সেই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের ভারতে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল, কীভাবে অর্থের জোগান আসত এবং বিদেশে বসে কোন কোন সংগঠনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখত। পাশাপাশি বিদেশে থাকা আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের নামও তদন্তে উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের ভারতে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল, কীভাবে অর্থের জোগান আসত এবং বিদেশে বসে কোন কোন সংগঠনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখত। পাশাপাশি বিদেশে থাকা আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের নামও তদন্তে উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রত্যর্পণ শুধু দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবিলায় ভারতের কূটনৈতিক এবং গোয়েন্দা সাফল্যেরও প্রমাণ। মালয়েশিয়ার সহযোগিতায় এই অভিযান সফল হওয়ায় ভবিষ্যতে বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পঞ্জাবে রেল করিডরকে লক্ষ্য করে নাশকতার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই খালিস্তানি অপারেটিভের প্রত্যর্পণ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।