Kuki Terrorist Nabbed in Manipur: মণিপুরে জঙ্গি দমনে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। ভারতীয় সেনা, অসম রাইফেলস এবং মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউকেএনএ)-র এক শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হয়েছে। ধৃত ব্যক্তির নাম এস.পালাল থাদৌ ওরফে লালবোই সিংসন। তাঁর বয়স ৪৫ বছর। তিনি সংগঠনের স্বঘোষিত ‘ফিনান্স সেক্রেটারি’ হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২৩ জুলাই মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলার মলনম গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আগে থেকেই খবর ছিল, ওই জঙ্গি নেতা গ্রামে লুকিয়ে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনা, অসম রাইফেলস এবং মণিপুর পুলিশ যৌথভাবে পরিকল্পনা করে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর তল্লাশি চালিয়ে এস. পালাল থাদৌকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে তোলাবাজির জন্য ব্যবহৃত একাধিক চিরকুট এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি তদন্তের জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ‘হাই ভ্যালু টার্গেট’ বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বড় অঙ্কের তোলাবাজি চালানোর অভিযোগ ছিল। পাশাপাশি একাধিক গুলি চালানোর ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর।
পুলিশের মতে, এই গ্রেফতারের ফলে জঙ্গি সংগঠনের আর্থিক কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ, সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
{{/usCountry}}পুলিশের মতে, এই গ্রেফতারের ফলে জঙ্গি সংগঠনের আর্থিক কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ, সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
{{/usCountry}}নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এই যৌথ অভিযান সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। সেনা, অসম রাইফেলস এবং মণিপুর পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই কোনও বড় সংঘর্ষ ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও একইভাবে কঠোর অভিযান চালানো হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অভিযানে জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ অনেকটাই দুর্বল হবে। একই সঙ্গে তোলাবাজি ও হিংসার ঘটনাও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধৃত জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
সব মিলিয়ে, মণিপুরে এই যৌথ অভিযানকে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এর ফলে রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।