...
...
Next Story

Nepal Flash Flood:

Nepal Flash Flood: শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান প্রদেশের লংচ্যাং শহরে ৫.১ মাত্রার একটি জোরালো ভূমিকম্প (Earthquake) অনুভূত হয়। বেজিংয়ের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, দুপুর ১টা ১৩ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্প হয়।

Updated on: Aug 28, 2026, 13:30:22 IST
Advertisement

Nepal Flash Flood: ফের নেপালে বড় বিপদের আশঙ্কা। বুধবারের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের (Nepal Flash Flood) ক্ষত না শুকাতেই সীমান্তের তিব্বত অংশে ফের একটি লেক ফেটে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে নতুন করে দেশে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল।

তিব্বতে ফাটল লেক, জোরাল ভূমিকম্প চিনে, নেপালে ফের অ্যালার্ট (REUTERS)
তিব্বতে ফাটল লেক, জোরাল ভূমিকম্প চিনে, নেপালে ফের অ্যালার্ট (REUTERS)

গত কয়েকদিনের দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার নেপালের পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ ছুঁইছুঁই। এখনও নিখোঁজ ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই আবহে নেপাল পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিব্বত অংশে আবারও একটি লেক ফেটে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত সব নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, নতুন করে বন্যার ঝুঁকি থাকায় তিব্বতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চিন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। চিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, চিন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের পর বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে একটি অবরুদ্ধ হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। সেই অবরুদ্ধ হ্রদের জল এখন উপচে উদ্ধারকারী দলগুলোর যাওয়ার পথে থাকা এলাকায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এ কারণে সব উদ্ধারকারী দলকে নিজেদের অবস্থানে অপেক্ষা করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। যেসব জরুরি উদ্ধারকারী দল এরই মধ্যে দুর্গত এলাকায় পৌঁছেছিল, তাদেরও সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অবরুদ্ধ হ্রদ ভেঙে পড়ার চরম ঝুঁকিতে উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

চিনে জোরালো ভূমিকম্প

চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ল্যাংট্যাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে ধসের ফলে সৃষ্ট অবরুদ্ধ বা ব্যারিয়ার লেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ ঘনমিটার জল জমে গিয়েছে। ছোচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংগামে তৈরি হওয়া এই হ্রদটি ইতিমধ্যেই উপচে পড়তে শুরু করেছে। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, সপ্তাহান্তের মধ্যে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল হ্রদে প্রবেশ করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে মারাত্মক করে তুলেছে। প্রবল জলের চাপে গিয়িরং পোর্ট সংলগ্ন এলাকায় চিনা (China) জরুরি পরিষেবা দলগুলো আটকে পড়েছে এবং নতুন ধসের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় সমস্ত ধরনের উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। এদিকে, নেপালের স্থানীয় প্রশাসন রাসুয়া, ধাদিং, নুওয়াকোট সহ ভোতে কোশী এবং ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। নদী তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। বুধবারের বিপর্যয়ে নেপালে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলেই সাড়ে পাঁচশোর বেশি মানুষ নিখোঁজ, যার মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। একের পর এক বিপর্যয়ের ফলে হিমালয়ের পাদদেশীয় এই অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe