...
...
Next Story

Lalit Modi: দাউদের হুমকি থেকে PM মোদীর প্রশংসা! ললিত মোদীর বিস্ফোরক ৮টি দাবি এক নজরে

Lalit Modi: ললিত মোদীর দাবি, আইপিএলের শুরুর দিনগুলোতে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপসহীন নীতি নিয়েছিলেন। আর এটাই কাল হয়েছিল তাঁর জন্য। ক্রিকেট জুয়া এবং স্পট ফিক্সিংয়ের কোটি কোটি টাকার ‘সত্তা বাজার’ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইত আন্ডারওয়ার্ল্ড।

Published on: Jun 05, 2026 02:21 PM IST
Advertisement

Lalit Modi: আইপিএল-এর জনক তিনি। কিন্তু গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বাইরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আইপিএল-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ললিত মোদীকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এবার দেশ ছাড়ার আসল কারণ নিয়ে এক মারাত্মক ও বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। ললিত মোদীর দাবি, ক্রিকেট প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন দাউদ ইব্রাহিম এবং তার লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া একাধিক প্রাণনাশের হুমকি। এছাড়াও লন্ডনপ্রবাসী মোদী একাধিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, যাবতীয় বক্তব্য ও অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ পেশ করেননি। এগুলি, আপাতত, তাঁর ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে।

খুনের ছক থেকে ক্রিকেট ছাড়া

ললিত মোদীর বিস্ফোরক দাবি
ললিত মোদীর বিস্ফোরক দাবি

ললিত মোদীর দাবি, আইপিএলের শুরুর দিনগুলোতে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপসহীন নীতি নিয়েছিলেন। আর এটাই কাল হয়েছিল তাঁর জন্য। ক্রিকেট জুয়া এবং স্পট ফিক্সিংয়ের কোটি কোটি টাকার ‘সত্তা বাজার’ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইত আন্ডারওয়ার্ল্ড। আর তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, দাউদের নেটওয়ার্ক আইপিএলের দল বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানার মধ্যেও নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি শক্ত হাতে সেই চেষ্টা রুখে দেন। এরপরেই বুকি এবং জুয়াড়িরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বুকিরা তখন মাঠে গোপন কোড বা সঙ্কেতের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত, যার ওপর কড়া নজর রাখতেন ললিত মোদী।

এখানেই শেষ নয়, ললিত মোদী দাবি করেছেন যে তাঁর জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মুম্বইয়ে তাঁর বাড়ির বাইরে গুলি চলেছিল, জোহানেসবার্গ ও মন্টিনিগ্রো সীমান্তেও তাঁকে টার্গেট করার চেষ্টা হয়েছিল। আতঙ্কের সেই দিনগুলির কথা মনে করিয়ে মোদী আরও এক মারাত্মক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, সেই সময় হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডনে তাঁর একমাত্র ছেলেকে অপহরণ পর্যন্ত করা হয়েছিল।

‘পলাতক’ তকমা প্রত্যাখ্যান

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও সরাসরি নিশানা করেছেন ললিত মোদী। আইপিএল-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যানের মতে, ক্রিকেটের সঙ্গে ভারতীয়দের এক গভীর আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। আর ঠিক সেই কারণেই রাহুল গান্ধী তাঁর নির্বাচনী প্রচার এবং রাজনৈতিক বক্তৃতায় বারবার তাঁর নাম টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, 'যখনই নির্বাচন আসে', তখনই জনমতকে উস্কে দিতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে রাহুল গান্ধী তাঁকে আক্রমণ করা শুরু করেন। রাহুল গান্ধীর সেই বহুচর্চিত 'মোদী পদবি' সংক্রান্ত মন্তব্যের কয়েক বছর পর ললিত মোদীর এই প্রতিক্রিয়া সামনে এল। সে সময় এক রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখার সময় নীরব মোদী বা ললিত মোদীর মতো ব্যক্তিত্বদের নাম উল্লেখ করে মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী।

'কংগ্রেস নেতারা আইপিএল বন্ধ করতে চেয়েছিলেন'

আইপিএল নিয়ে এবার তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ (ইউপিএ) সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন ললিত মোদী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস সরকার আইপিএল-এর পথ রুদ্ধ করার সবরকম চেষ্টা করেছিল, বিশেষ করে ২০০৯ সালের দ্বিতীয় সংস্করণের সময়। তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচন থাকায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম ভারতে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তৎকালীন কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যগুলিও আইপিএল-এর ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে বা সময়সূচি নিয়ে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। মোদীর মতে, টুর্নামেন্টটি যাতে ভারতেই করা যায়, সেজন্য সূচি তালিকা সংশোধন করার একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের অনড় মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে টুর্নামেন্টটি দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তরিত করতে হয়।

২০১০ সালের কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিতর্ক

আইপিএল-এর ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত কোচি টাস্কার্স কেরল অধ্যায় নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন আইপিএল চেয়ারম্যান ললিত মোদী। লন্ডনে বসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ২০১০ সালের কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিতর্কে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুরকে রক্ষা করতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সক্রিয় হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ফ্র্যাঞ্চাইজির শেয়ার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই তাঁকে চাপে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়। প্রাক্তন আইপিএল প্রধানের অভিযোগ, কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজির চুক্তিপত্রে সই করার আগে তিনি সুনন্দা পুষ্করের ভূমিকা ও শেয়ারহোল্ডিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি এই বিষয়ে পরিষ্কার উত্তর পাননি এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পক্ষেই ছিলেন। ললিত আরও দাবি করেন, এক পর্যায়ে শশী থারুরের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথোপকথন হয়েছিল। সেই আলোচনায় সুনন্দা পুষ্কর সম্পর্কে প্রশ্ন না তোলার অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি নতুন কোনও নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে কী বলেছেন?

দেশের একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের তীব্র সমালোচনা করলেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ললিত মোদী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। অতীতে তাঁদের মধ্যে ক্রিকেট-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে আহমেদাবাদের ক্রিকেট পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে ললিত মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁদের এই সম্পর্ক কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ নয়। তাঁদের মধ্যকার আলাপ-আলোচনা সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেট এবং ক্রীড়া প্রশাসনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।

বায়োপিক

ললিত মোদী নিশ্চিত করেছেন যে তাঁর জীবনীর উপর ভিত্তি করে একটি অফিশিয়াল বায়োপিক তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। আর এই ছবিতে তাঁর জুতোয় পা গলাতে মুখিয়ে আছেন স্বয়ং রণবীর সিং। ললিত মোদী জানিয়েছেন, ছবিটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, ছবির মূল চরিত্রের কাস্টিং এখনও চূড়ান্ত না হলেও, রণবীর সিং এই রোলটি করতে ভীষণ ভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেন, ’রণবীর আমার চরিত্রে অভিনয় করতে চায়, ও নিজেই দু'বছর আগে লন্ডন এসে আমার সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে গিয়েছে। তখনকার সময়ে আমি রণবীরকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতাম না, তবে দীপিকাকে খুব ভালো করেই চিনতাম। একদিন হঠাৎ আমার কাছে ফোন আসে যে রণবীর আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।’

ভারতে ফিরে যাবেন?

ভবিষ্যতে কখনও ভারতে ফেরার ইচ্ছা আছে কিনা, জানতে চাওয়া হলে ললিত মোদী ইঙ্গিত দেন যে, বিগত বছরগুলোতে তাঁর জীবনের অগ্রাধিকার অনেকটাই বদলে গেছে। তিনি স্পষ্ট জানান, নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার সেই তাগিদ তিনি এখন আর নিজের মধ্যে অনুভব করেন না। একই সঙ্গে তিনি আভাস দেন যে, এই মুহূর্তে ভারতে ফেরা তাঁর প্রধান লক্ষ্য বা অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সবকটিই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুরু থেকেই তিনি যেভাবে কোনও প্রকার অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে এসেছেন, এদিনও নিজের সেই অবস্থানেই অনড় থাকেন আইপিএল-এর প্রাক্তন এই কর্তা।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe