Kashmir Terror: জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে শুক্রবার দুই পরিযায়ী শ্রমিকের উপরে হামলার ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার লতিফ বাট ও তার সহযোগী ওয়ারিস শাহ রয়েছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, লতিফ বাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ওয়ারিস শাহ এই হামলার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক বা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল এবং আগে থেকে রেকি করার কাজে সরাসরি মদত দিয়েছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কেল্লাম গ্রামে জঙ্গিরা দুই পরিযায়ী শ্রমিককে নিশানা করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা দীপকের। গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীনগরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই রাজ্যেরই ভূপেন্দর নামে আর এক শ্রমিককে। শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এর ঠিক দশদিন আগে আরও একবার রক্তে রাঙা হয়েছিল উপত্যকার মাটি। সেই ঘটনাটি ঘটেছিল অনন্তনাগে। জঙ্গিদের হানায় প্রাণ যায় এক পুলিশ কর্মীর। এই ঘটনার পরেই জম্মু ও কাশ্মীর জুড়েই নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। গোটা উপত্যকা জুড়েই জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উভয় হামলায় একে-৪৭ রাইফেলের বদলে পিস্তলের মতো ছোট অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের মতে, কাশ্মীরের জনজীবনে মিশে থাকা জঙ্গিরাই এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদের ‘হাইব্রিড জঙ্গি’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁরা। জনজীবনে মিশে থেকে হঠাৎই পিস্তলের মতো ছোট অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যক্তিহত্যা করে এরা। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, উভয় হামলার ধরণ পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর সঙ্গে মিল রয়েছে। এক সেনা আধিকারিক জানান, 'টিআরএফ দ্রুত পিস্তল হামলা চালিয়ে ভিড়ের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার জন্য পরিচিত। বড় কোনও বড় অস্ত্র সঙ্গে থাকে না, তাই তাদের উপস্থিতিও সহজে চোখে পড়ে না। এভাবেই তারা গ্রেফতারি এড়িয়ে যায়।' তদন্তকারীদের মতে, এই হামলাগুলির নেপথ্যের উদ্দেশ্য একেবারে স্পষ্ট: সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করা এবং কাশ্মীরের শান্তি যে এখনও ভঙ্গুর, সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বর্তমানে এই দুই জঙ্গির সন্ধানে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে।
কে এই লতিফ বাট?
লতিফ বাট হল লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার, যে শোপিয়ান এনকাউন্টারের পর প্রথম আলোচনায় আসে। ওই সংঘর্ষের সময় লস্করের আরেক শীর্ষ কমান্ডার জাকির গানাইয়ের সঙ্গে সে একটি জায়গায় আটকে পড়েছিল। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা সেই এনকাউন্টারে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয় জাকির। তবে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় লতিফ বাট। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সন্দেহ, সেই ঘটনার পর থেকেই সীমান্তপারের হ্যান্ডলারদের নির্দেশে অ-স্থানীয় নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর 'টার্গেটেড কিলিং' বা বেছে বেছে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে নিজের স্লিপার সেলগুলিকে নতুন করে সক্রিয় করে তুলেছে লতিফ।
{{/usCountry}}লতিফ বাট হল লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার, যে শোপিয়ান এনকাউন্টারের পর প্রথম আলোচনায় আসে। ওই সংঘর্ষের সময় লস্করের আরেক শীর্ষ কমান্ডার জাকির গানাইয়ের সঙ্গে সে একটি জায়গায় আটকে পড়েছিল। টানা পাঁচ দিন ধরে চলা সেই এনকাউন্টারে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয় জাকির। তবে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় লতিফ বাট। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সন্দেহ, সেই ঘটনার পর থেকেই সীমান্তপারের হ্যান্ডলারদের নির্দেশে অ-স্থানীয় নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর 'টার্গেটেড কিলিং' বা বেছে বেছে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে নিজের স্লিপার সেলগুলিকে নতুন করে সক্রিয় করে তুলেছে লতিফ।
{{/usCountry}}