পাকিস্তানের লাহোরে মৃত্যু হল মার্কিন অর্থ দফতরের তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক জঙ্গি মহম্মদ সারওয়ারের। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, মসজিদে নমাজ পড়তে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তান মার্কাজ-ই মুসলিম লিগ (পিএমএমএল)। এই সংগঠনের পঞ্জাব প্রদেশের সভাপতি ছিলেন সারওয়ার। তবে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ২৪ নিউজ এইচডি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় আঘাত লাগার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে তিনি সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, তাও এখনও স্পষ্ট নয়। সারওয়ারের মৃত্যুতে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার আর্থিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হারাল সংশ্লিষ্ট মহল।
লস্করের অর্থ জোগাড় করতেন সারওয়ার

মার্কিন অর্থ দফতরের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দফতর বা ওএফএসি ২০১৬ সালে সারওয়ারকে ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। একই সময়ে লস্কর-ই-তইবার আর এক শীর্ষ নেতা শহিদ মাহমুদকেও ওই তালিকায় রাখা হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, এই দু’জন জঙ্গি সংগঠনটির কাজকর্ম চালানোর জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোর দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের সম্পত্তি ও মার্কিন বিচারব্যবস্থার আওতাধীন আর্থিক সম্পদের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল।
মার্কিন অর্থ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সারওয়ার দীর্ঘদিন ধরে লস্কর-ই-তইবার লাহোর শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্তত ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি সংগঠনটির লাহোর প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন। এর আগেও সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃত্বস্থানীয় পদে ছিলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ
লস্করের হয়ে অর্থ সংগ্রহে সারওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ মার্কিন কর্তৃপক্ষের। ২০০০ সালের গোড়ার দিক থেকেই এই সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। লাহোরে লস্করের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি পাকিস্তানের প্রচলিত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং তা স্থানান্তর করতেন বলে দাবি ওএফএসি-র।
২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের কয়েকটি দলকে লস্করের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে নিয়ে গিয়েছিলেন সারওয়ার। সেই সময় সংগঠনটির জন্য অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে লাহোরে লস্করের অর্থ বিভাগের দায়িত্বে থাকা দুই আধিকারিকের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সারওয়ার। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জঙ্গি সংগঠনটির কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
হাফিজ সইদের সংগঠনের সঙ্গে যোগ
{{/usCountry}}২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের কয়েকটি দলকে লস্করের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে নিয়ে গিয়েছিলেন সারওয়ার। সেই সময় সংগঠনটির জন্য অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে লাহোরে লস্করের অর্থ বিভাগের দায়িত্বে থাকা দুই আধিকারিকের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সারওয়ার। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জঙ্গি সংগঠনটির কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।
হাফিজ সইদের সংগঠনের সঙ্গে যোগ
{{/usCountry}}সারওয়ার যে পিএমএমএলের পঞ্জাব প্রদেশের সভাপতি ছিলেন, সেই সংগঠনটির সঙ্গে হাফিজ সইদের জামাত-উদ-দাওয়ার রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। হাফিজ সইদ ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত। একাধিক জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থ জোগানের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১৯ সাল থেকে তিনি লাহোরের কোট লাখপত জেলে বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
সারওয়ারের মৃত্যুতে পিএমএমএলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। দলের নেতা মুজাম্মিল ইকবাল হাশমি তাঁকে শক্তিশালী ও সাহসী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রবিবার রাতেই লাহোরের চুবুরজি এলাকায় জামাত-উদ-দাওয়ার সদর দফতর জামিয়া আল-কাদসিয়ায় সারওয়ারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
সারওয়ারের মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে, নাকি অন্য কোনও পরিস্থিতিতে হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে আপাতত তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে কোনও ষড়যন্ত্রের দাবি করার মতো নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে লস্কর-ই-তইবার অর্থ সংগ্রহ ও আর্থিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা এক ব্যক্তির মৃত্যু হিসেবে ঘটনাটি নিরাপত্তা মহলের নজরে রয়েছে।