কিংবদন্তি পাকিস্তানি পেসার শোয়েব আখতারের দাদা শহিদ আখতারের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার (LeT) রাজনৈতিক শাখার একাধিক শীর্ষ নেতা। এই ঘটনা সামনে আসতেই পাকিস্তানে জঙ্গিদের অবাধ বিচরণ এবং রাষ্ট্রীয় মদতের অভিযোগ নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শোয়েব আখতারের বড় ভাই শাহিদ আখতার। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে নিজেই জানিয়েছিলেন শোয়েব। তিনি লিখেছিলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রিয় বড় ভাই শাহিদ আখতার আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়েছেন। পরদিন তাঁর জানাজার সময় ও স্থান জানানো হবে।

তবে শেষকৃত্যের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্কের সূত্রপাত। পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (PMML)-এর প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, লস্কর-ই-তইবার রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত সংগঠনের একাধিক নেতা শেষকৃত্যে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পিএমএমএলের ইসলামাবাদ প্রধান ইনাম-উর-রহমান কাম্বোহ, সংগঠনের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল্লাহ তুর, জোনাল জেনারেল সেক্রেটারি হাফিজ উমর, খিদমত কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ ভাট্টি-সহ আরও অনেকে। ভিডিওতে তাঁদের মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করতে দেখা যায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সংগঠনকে আন্তর্জাতিক মহলে লস্কর-ই-তইবার রাজনৈতিক শাখা বা ‘প্রক্সি’ হিসেবে দেখা হয়। লস্করের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতি নতুন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগকে উস্কে দিয়েছে।
এই ঘটনার পর শোয়েব আখতার এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। জানাজায় জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে তাঁর তরফে কোনও ব্যাখ্যাও সামনে আসেনি। যদিও বিষয়টি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একাধিকবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ২৬/১১ মুম্বই হামলা-সহ একাধিক জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত।
{{/usCountry}}ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও একাধিকবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ২৬/১১ মুম্বই হামলা-সহ একাধিক জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত।
{{/usCountry}}শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতি সেই পুরনো বিতর্ককে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে দেশটির অবস্থান নিয়ে এখনও গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।